kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেস

বিশ্বরেকর্ড বিএম ছাত্র জুবায়েরের

বরিশাল অফিস   

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বরেকর্ড বিএম ছাত্র জুবায়েরের

শূন্যে বল নিক্ষেপ এবং ধরে ফেলে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) ছাত্র আশিকুর রহমান জুবায়ের। গত ৩০ জুলাই জুবায়েরের কাছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস থেকে এসংক্রান্ত স্বীকৃতিপত্রটি এসে পৌঁছে। স্বীকৃতিপত্রে বাংলাদেশি জুবায়ের ‘নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেস’ ক্যাটাগরিতে মিনিটে ৬৫ বার বল নিক্ষেপ এবং ধরে ফেলে বিশ্বরেকর্ড করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অসামান্য এ সাফল্যের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বিএম কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও ঝালকাঠি জেলা শহরের মসজিদ বাড়ি রোডের বাসিন্দা জালাল আহম্মেদের ছেলে আশিকুর রহমান জুবায়ের। তিনি ২০১৪ সালে সরকারি ঝালকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ২০১৬ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ৪.২৫ জিপিএ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন বরিশাল বিএম কলেজে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আশিকুর রহমান জুবায়ের তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘ফুটবল খেলা ও ফুটবল নিয়ে কসরত আলাদা বিষয়। ফুটবলে আমার অনুপ্রেরণা হলেন ওয়ার্ল্ড সুপারস্টার রোনালদিনহো। ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বর জার্মানির মার্কেল গুর্ক (গধৎপবষ েঁত্শ) নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেস ক্যাটাগরিতে মিনিটে ৬২ বার বল নিক্ষেপ ও ধরে ফেলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তাঁর রেকর্ড আমি ভেঙে ফেলি এ বছর। আমি মিনিটে ৬৫ বার নেক থ্রো অ্যান্ড ক্যাচেসে সফল হই।’ তিনি আরো বলেন, ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়া কঠিন বিষয়। এ জন্য নিয়মিত পরিশ্রম ও একনিষ্ঠ মনোযোগ দরকার। নিরাশ হলে সম্ভব নয়। নতুন নতুন ইভেন্টে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বরেকর্ড গড়বে। তাতে শুধু ব্যক্তির সুনাম নয়, দেশের নাম ছড়িয়ে পড়বে সারা বিশ্বে।’ কীর্তিমান তরুণ জুবায়ের বলেন, ‘আমি চাই আমার রেকর্ডটি নতুন কেউ ভাঙুক। তাতে করে দেশের ফুটবল সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।’ জুবায়েরের কোনো প্রশিক্ষক ছিল না। মা-বাবার চোখ এড়িয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজে নিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালাতেন অনুশীলন। তবে তাঁর মা-বাবা এখন গর্বিত। বাবা জালাল আহম্মেদ এখন আর বাধা দেন না। তিনি মনে করেন, ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের চর্চা চালিয়ে যেতে পারে।

জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জুবায়েরের এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। অসামান্য অবদান এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করায় বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা সংবর্ধনার উদ্যোগ গ্রহণ করে।’ সংবর্ধনায় বিশ্বরেকর্ডধারী জুবায়েরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সম্মাননা ক্রেস্ট, ১০ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়েছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রশান্ত কুমার রায়, ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আলমগীর খান আলো, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা বরিশাল হুসাইন আহম্মেদ প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা