kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

বাংলাদেশে বন্যা

চার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ জাতিসংঘের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ জাতিসংঘের

বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চার কোটি মার্কিন ডলার (৩৫৬ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাত জেলার ১০ লাখ ৯৩ হাজার মানুষের জন্য এই তহবিল আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যয় করা হবে।

এর মধ্যে শিশু সুরক্ষায় ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ ডলার, শিক্ষায় ১৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিতে এক কোটি ৪০ লাখ ৭১ হাজার ২৮৯ ডলার চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, আশ্রয় ও সমন্বয়সহ বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় হবে।

ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জাতীয় কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। সহযোগিতার জন্য বন্যাদুর্গত ১৫ জেলা থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাতটি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো জামালপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুর, গাইবান্ধা ও সুনামগঞ্জ।

 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৩৫ শতাংশের বেশি এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ১৯৯৮ সালের পর এটিই দীর্ঘতম বন্যা। গত জুন মাস থেকে বন্যা চলছে। ৩০টি জেলায় বন্যার প্রভাব পড়েছে। সেগুলোর মধ্যে মাঝারি থেকে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে ১৫ জেলায়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালের পর ২০০৭ ও ২০১৭ সালের বন্যার প্রকৃতি অনেকটা একই ধরনের ছিল। ওই সব বন্যায় দেশের ৪০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৭টি বাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশের ৮১ হাজার ১৭৯টি নলকূপ ও ৭৩ হাজার ৩৪৩টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ৮৩ হাজার একর শস্যক্ষেত, এক লাখ ২৫ হাজার ৫৪৯ হেক্টর কৃষিজমি ও চার কোটি ২০ লাখ ডলারের শস্য ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় মাঝারি থেকে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে।

এবারের বন্যাকে ১৯৮৮ সালের পর দীর্ঘতম বন্যা হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে পানিপ্রবাহ বিপত্সীমার ওপর ছিল ৬৩ দিন। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে এ ধরনের প্রলম্বিত বন্যা অতীতে কখনো এত দ্রুত শুরু হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা