kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

উৎসবমুখর পরিবেশ, পাশেই নির্মম পৈশাচিকতা

নরসিংদীতে ছাত্রকে পিটিয়ে ও নদীতে চুবিয়ে হত্যা

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীতে ছাত্রকে পিটিয়ে ও নদীতে চুবিয়ে হত্যা

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অনিক মিয়া (১৬) নামের দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে প্রথমে পিটিয়ে আহত করা হয়। এরপর নদীর পানিতে চুবিয়ে রেখে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার নাগরিয়াকান্দি এলাকার শেখ হাসিনা সেতুর নিচে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্র অনিক সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের কালাই গোবিন্দপুর এলাকার শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে। পরিবার নিয়ে নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন শহিদুল্লাহ। গতকাল বুধবার বিকেলে নিহতের বাবা বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নদী থেকে অচেতন অনিককে উদ্ধারকারী সাকিব, সুমনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক অন্যজনের নাম সাগর। আসামিরা হলেন দড়িনবীপুরা এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আজিজুল (১৯), একই এলাকার জজ মিয়ার ছেলে শ্রাবণ (২০), আলতাফ মিয়ার ছেলে আরিফ (২০), মৃত মালু মিয়ার ছেলে মাঈন উদ্দিন (২৪), আয়েছ আলীর ছেলে আরিফ (১৯), বাদল মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (২৩), মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাগর বাদশাসহ (১৪) অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাটিরপাড়া কালিকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র অনিক গত সোমবার বিকেলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের শেখ হাসিনা সেতুতে ঘুরতে যায়। ঈদের ছুটিতে সেখানে ব্যাপক জনসমাগম ছিল। একপর্যায়ে অনিকের সঙ্গে আজিজুল, শ্রাবণ, আরিফ ও মাঈন উদ্দিনের ঝগড়া বাধলে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মিটমাট করে দেয়। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে দড়িনবীপুরা এলাকার আলতাফ মিয়ার ছেলে আরিফ ওই ঘটনার মীমাংসার কথা বলেফোন করে অনিককে শেখ হাসিনা সেতুতে যেতে বলেন। অনিক দ্রুত সেখানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান তাঁরা। এ সময় অনিককে শ্রাবণ ও মাঈন উদ্দিন জাপটে ধরে রাখেন আর আজিজুল নৌকার পাটাতনের কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে আরিফ, ইয়াছিন ও সাগর মিলে নদীর পানিতে চেপে ধরে রাখেন মারাত্মক আহত অনিককে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যায় সে। পরে ঘাতকরা চলে গেলে সুমন ও সাকিব নামের দুই ব্যক্তি উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় ১০ মিনিট পর অনিককে অসাড় অবস্থায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শেখ হাসিনা সেতুর ওপর বেড়াতে আসা অনেকে সংঘর্ষের ভিডিও চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়। ভিডিওতে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডের সময় পাশে থাকা নৌকাগুলোয় আনন্দ-ফুর্তিতে মগ্ন ছিল অনেকে।

নিহতের মামা শিক্ষানবিশ আইনজীবী ইমরুল শাহিন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার ভাগ্নেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে কারা কিভাবে আমার ভাগ্নেকে হত্যা করেছে।’

নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের বাবা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। মৃত্যুর কারণ ও পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা