kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

পোশাকে ঝুঁকছে ক্রেতারা

রোজার ঈদের আবহ কোরবানির ঈদে

সজীব আহমেদ   

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোজার ঈদের আবহ কোরবানির ঈদে

করোনাভাইরাসের কারণে ঈদুল ফিতরে দেশের বড় মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় ইচ্ছা থাকলেও ঈদ উপলক্ষে মানুষ নতুন পোশাক কিনতে পারেনি। তবে এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পোশাক কিনতে রাজধানীর বড় বড় শপিং মল, মার্কেট, ফুটপাত—সবখানেই সব বয়সী মানুষ ভিড় করছে। করোনার ভয় উপেক্ষা করে সকাল ১০টার আগেই মার্কেটমুখী সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় শুরু হতে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতাকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ক্রেতাদের স্বার্থে সপ্তাহের সাত দিনই খোলা রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলসহ বেশির ভাগ মার্কেট। গত ১ জুলাই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিং মলগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা ছিল। ঈদ উপলক্ষে গত সোমবার থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি জানিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, করোনার কারণে ঈদুল ফিতরে ব্যবসা না হওয়ায় বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগেও বেচাকেনা ছিল না বললেই চলে। তবে চার-পাঁচ দিন ধরে ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বিক্রিও অনেক ভালো হচ্ছে। ক্রেতারা জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কাপড় কেনা হয় না। রমজানের ঈদে কেনার প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু বড় মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় এবং সংক্রমণের আতঙ্ক বেশি থাকায় মার্কেটে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। তাই এখন কাপড় কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে সবার।

ঈদ সামনে রেখে গত কয়েক দিন রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, নিউ মার্কেট, ফার্মগেট, গুলিস্তানসহ বেশ কিছু এলাকায় কেনাকাটায় ভিড় দেখা যায়। বড় মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেলেও ছোট দোকানগুলোতে বিক্রেতারা ন্যূনতম কোনো সুরক্ষা গ্রহণ করছেন না।

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের দ্বিতীয় তলায় আইরো নামের পোশাকের দোকানের ম্যানেজার মামুন আহমেদ তুষার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার মধ্যে যতটুকু বিক্রির আশা করেছিলাম তার চেয়ে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। কড়া নির্দেশনা থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কেনাকাটা করছে ক্রেতারা। শপিং মলের প্রতিটি দোকানে প্রবেশের আগেই হাতে স্যানিটাইজার স্প্রে করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া কাউকে বসুন্ধরা শপিং মলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’

এ শপিং মলের দ্বিতীয় তলায় লুবনান শো রুমের ভেতরেও একই পরিবেশ দেখা গেল। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রেতারা কেনাকাটা করছে। জানতে চাইলে লুবনানের ম্যানেজার মীর মহসিন আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি বেড়েছে। গত বছরের ঈদের তুলনায় বিক্রি কিছু কম হলেও করোনার সময়ের তুলনায় বিক্রি ভালো হচ্ছে।’

মেয়েদের কাপড় কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে অর্নিমা ফ্যাশনের ম্যানেজার সোহেল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লেডিস আইটেমের বিক্রি একদম কম। ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের আইটেমের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে কিন্তু মেয়েদের কাপড় বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ।’ এদিকে মোবাইল ফোনের শোরুমগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। বিভিন্ন মোবাইল ফোনের শোরুমের কর্মীরা বলছেন, এখন অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন বিক্রি বেড়েছে। করোনার কারণে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস চালু হওয়ায় এবং চাকরিজীবীদের অনলাইন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করার ফলে তাঁদের কাছে অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন।

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে পোশাক কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজীব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের ভয়ে ও মার্কেটগুলো বন্ধ থাকায় রমজানের ঈদে নিজের ও পরিবারের কারো জন্য নতুন পোশাক কেনা হয়নি। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার ঈদের কেনাকাটা করছি।’

এ ছাড়াও রাজধানীর গুলিস্তান, ফর্মগেট এলাকার ফুটপাতের মার্কেটগুলোও জমে উঠেছে। ছোট ছোট দোকান বা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে পছন্দের জিনিসপত্র কেনার জন্য ভিড় জমাতে দেখা গেছে। তবে অর্ধেক ক্রেতার মুখেই মাস্ক ছিল না। এমনকি সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে গুরুত্ব দিতেও দেখা যায়নি তেমন একটা।

মন্তব্য