kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনায় বেশি বিপর্যস্ত পিছিয়ে থাকা নারী

পোশাক খাতে কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক, যার ৭০ শতাংশই নারী

রফিকুল ইসলাম   

১৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় বেশি বিপর্যস্ত পিছিয়ে থাকা নারী

দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। সংখ্যায় প্রায় সমান হলেও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে আছে নারীরা। করোনাভাইরাস মহামারিতে নারীর সম্পৃক্ততা বেশি—এমন খাতগুলোই বড় ধাক্কা খেয়েছে। পুরুষরা বিকল্প পথে কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও কাজ পাচ্ছেন না নারী শ্রমিকরা। তাঁরা ব্যাপক হারে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নারী উদ্যোক্তারাও রয়েছেন সংকটে।

দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী শিল্প পোশাক খাত, হোটেল, রেস্তোরাঁসহ সেবা খাত, আবাসন ও কৃষি খাত এবং গৃহকর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বড় অংশই নারী। করোনা দুর্যোগে এসব খাতে কর্মরত নারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নারী শ্রমিক জড়িত—এমন অর্থনৈতিক খাত, যেমন—আবাসন, খাদ্য, বিপণন ও উৎপাদন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ৫১০ মিলিয়ন বা নারী শ্রমিকের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ এই চার খাতে। গৃহকর্মী, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতের নারী শ্রমিকরাও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। আইএলও বলছে, গত দশকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে যে উন্নতি হয়েছিল, তাতে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ সালে শ্রমশক্তির হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৩ লাখ। আট কোটি ১০ লাখ পুরুষ আর আট কোটি তিন লাখ নারী। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ছয় কোটি আট লাখ ২৮ হাজার কর্মসংস্থান, যার মধ্যে চার কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার পুরুষ এবং এক কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার নারী।

বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক (সরকারি, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক) খাতে কর্মসংস্থান ৯০ লাখ ৯৪ হাজার। নারী ১৫ লাখ ৫০ হাজার আর পুরুষ ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে (বেসরকারি, ব্যক্তি কর্মসংস্থান ও শিল্প-কারখানায়) কর্মসংস্থান পাঁচ কোটি ১৭ লাখ। নারী এক কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার আর পুরুষ তিন কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির মতে, গত ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির সময় কর্মে নিয়োজিত মানুষের মধ্যে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৭৩ হাজার কাজ হারিয়েছে।

সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের (ডিআইএফই) হিসাব অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর ১৫ হাজার ৯৬৫টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। কাজ হারিয়েছেন সাড়ে ১০ লাখ শ্রমিক।

চলতি মাসে চূড়ান্ত করা ডিআইএফইর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার মধ্যে আছে এক হাজার ৯১৫টি তৈরি পোশাক কারখানা। আর অন্যান্য খাতের কারখানার সংখ্যা ১৪ হাজার ৫০। এসব কারখানায় কাজ করতেন ১০ লাখ ৫১ হাজার শ্রমিক। এই শ্রমিকের বেশির ভাগই বর্তমানে বেকার। সূত্র জানায়, তৈরি পোশাক খাতে বর্তমানে ৪২ লাখ কর্মসংস্থান, যার ৮০ শতাংশ শ্রমিক নারী। এ খাতের পরে নারী শ্রমিকদের বড় অংশই শহরে বাসাবাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে। ছোট ছোট হোটেল কিংবা রেস্টুরেন্টেও নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ রয়েছে। যদিও গৃহশ্রমিক এবং হোটেল ও রেস্টুরেন্টের নারী শ্রমিকের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ৭৮ লাখ উদ্যোক্তার ৪০ শতাংশই নারী। করোনাকালে ছোট নারী উদ্যোক্তারাও বিপর্যস্ত।

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের মতে, করোনার কারণে সারা দেশের গার্মেন্ট কারখানা থেকে ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, যার ৭০ শতাংশই নারী। সংগঠনটির নেতা সিরাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কাজ না থাকায় কর্মী ছাঁটাই করছেন পোশাক কারখানার মালিকরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) অনুমানভিত্তিক হিসাব বলছে, দেশে গৃহশ্রমিক ২৫ লাখের বেশি। চার লাখের বেশি গৃহশ্রমিক শিশু, যার ৮৩ শতাংশ মেয়ে।

 



সাতদিনের সেরা