kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

আমরণ অনশনের হুমকি পাটকল শ্রমিকদের

স্বেচ্ছা অবসর মেনে নেওয়ার আহ্বান শ্রম প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও খুলনা   

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরণ অনশনের হুমকি পাটকল শ্রমিকদের

সরকারি পাটকল শ্রমিকদের স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছেন শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আগামীকাল বুধবার থেকে শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ মিল গেটে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গতকাল খুলনায় অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শ্রমিক নেতারা এ ঘোষণা দেন।

এদিকে পাটকল শ্রমিকদের স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে যথাসময়ে শ্রমিকদের পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কেউ বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করলে তাতে সমর্থন না দিতে তিনি শ্রমিক নেতাদের আহ্বান জানান।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শ্রম ভবনে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের বৈঠকের সময় শ্রম প্রতিমন্ত্রী শ্রমিক নেতাদের এ আহ্বান জানান। সারা দেশের সরকারি ২৫ পাটকলের ৪০ শ্রমিক নেতা এতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা হবে। তবে কিছু শ্রমিক নেতা এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও সিদ্ধান্ত না মানার কোনো কারণ নেই।

বৈঠকে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু বলেন, পাটকল একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি বন্ধ থাকবে।

এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপির আওতায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাজেট থেকে প্রায় পাঁচ হাজার  কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ পাটকলে এই মুহূর্তে ২৪ হাজার ৮৮৬ জন স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন। তাঁদের  ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকে’র মাধ্যমে অবসর দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের হুমকি : সরকারি পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দিয়ে কারখানাগুলো পিপিপিতে চালানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিকরা গতকাল সোমবার খুলনায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি ও খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, পাট খাত পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের শ্রমিকরা সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় নেতারা বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে সরকারি এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে আগামীকাল বুধবার থেকে শ্রমিকরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ নিজ মিল গেটে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে যশোরের অভয়নগরে দুটি পাটকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও তাঁদের সন্তানরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। দাবি আদায় না হলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দেয় তারা। সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রিজ (জেজেআই) ও কার্পেটিং জুটমিলের শ্রমিকরা নিজ নিজ গেটে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

‘পাটকল শ্রমিকদের এভাবে বিদায় গণবিরোধী’ : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত গণবিরোধী। গণদুশমন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত কেউ নিতে পারে না। পাটকল শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’র মতো। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী সরকারের গণবিরোধী এই সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা