kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

চট্টগ্রামে নগরের চেয়ে গ্রামে সংক্রমণ বেশি

গত এক সপ্তাহে নগরে ৬ শতাংশ কমলেও জেলায় বেড়েছে
জেলায় আক্রান্ত হাজার ছাড়াল, বেশি হাটহাজারী উপজেলায়

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চট্টগ্রামে নগরের চেয়ে গ্রামে সংক্রমণ বেশি

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ চট্টগ্রামের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে বন্দরনগরে লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্ত বেড়েছিল। সাত দিন আগে চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের মধ্যে নগরেই ছিল সর্বোচ্চ ৭৯ শতাংশ। আর চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্তের হার ছিল ২১ শতাংশ। তখন সাধারণ ছুটির পাশাপাশি ‘লকডাউন’ ছিল।

এদিকে গত রবিবার থেকে সীমিত পরিসরে সব কিছু চালু হয়েছে। তাঁর এক দিন পর থেকে গণপরিবহনও সচল হয়। এ সময়ে গত সপ্তাহে নগরে আক্রান্তের হার ক্রমে কমছে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে হঠাৎ করে বেড়েই চলেছে সংক্রমণ। সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুপুর পৌনে ২টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম মহানগরে করোনা আক্রান্তের হার ৭৩ শতাংশ এবং জেলায় ২৭ শতাংশ।  অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা আক্রান্তের হার বেড়েছে ৬ শতাংশ। সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করে ওই কর্মকর্তারা জানান, গত রবিবার থেকে সব কিছু চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামের মানুষ শহরে যাচ্ছে আবার, শহরের মানুষ গ্রামে যাচ্ছে। ‘লকডাউন’ খোলার আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা লোকজনও গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। অবাধে মার্কেটে কেনাকাটাও করেছে। এ ছাড়া গ্রামের সব কাঁচা তরিতরকারি বাজারেও ছিল উপচে পড়া ভিড়, যা গত রবিবার থেকে আরো বেড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অনেক মানুষ। তাই আক্রান্ত সামনের দিনগুলোতে আরো বেড়ে যেতে পারে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি উপজেলার সরকারি শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রামে আক্রান্ত বাড়বেই তো। মানুষ যেভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তাতে দিন দিন আক্রান্ত বাড়ছে। আমরা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে অনেক চেষ্টা করছি। আমরা যেদিকে যাই সেখানে মানুষ দ্রুত সরে পড়ছে। কিন্তু ফেরার পর আবার আগের মতো রাস্তা বলেন, বাজার বলেন, দোকানপাট বলেন সব জায়গায় মানুষের সমাগম। তাঁরা (লোকজন) লালন করছে করোনা মোকাবেলাটা যেন প্রশাসনের কাজ এবং তারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে ঘোরাফেরা করবে।’

জেলার ১৫ উপজেলার মধ্যে নগরের উপকণ্ঠে থাকা হাটহাজারীতেই এখন করোনা আক্রান্ত সর্বোচ্চ রোগী। এখানে গত শুক্রবার পর্যন্ত ১৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পটিয়া উপজেলায় ১৫৮ জন। এর মধ্যে হাটহাজারীতে মারা গেছে দুজন এবং পটিয়ায় তিনজন।

নগরের চেয়ে গত এক সপ্তাহে জেলায় আক্রান্ত বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী গতকাল শনিবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিস খুলেছে। লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। গ্রামের মানুষ শহরে যাচ্ছে এবং শহর থেকে গ্রামে যাচ্ছে। লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এসব কারণে জেলায় আক্রান্ত বাড়ছে। তাই আমরা সব সময় বলে আসছি এবং বক্তব্য একটাই—লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। না মানলে আক্রান্ত হবে বেশি।’

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের অন্য উপজেলাগুলোর তুলনায় হাটহাজারী অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১০ মের আগে ১২/১৫ জন আক্রান্ত ছিল। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লোকজনকে সচেতন করতে উপজেলার আওতাধীন সব এলাকায় ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করি। তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ বিভিন্নভাবে কড়াকড়ি করেছি। কিন্তু এর পরও কিছুসংখ্যক লোক স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এখন আক্রান্ত বেড়ে যাচ্ছে। করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই, তা মানুষ না বুঝলে আক্রান্ত বাড়বে।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে নমুনা পরীক্ষায় এদিন চট্টগ্রামে নতুন করে ১৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে নগরে ১১৫ জন এবং জেলায় ৪৪ জন আক্রান্ত রয়েছে। ওই দিনসহ ২৯ মে পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল দুই হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে নগরে দুই হাজার ৪১ জন, অর্থাৎ ৭৯ শতাংশ। এ ছাড়া জেলার ১৫ উপজেলায় মোট আক্রান্ত ছিল ৫৪৭ জন, যা মোট আক্রান্তের ২১ শতাংশ। ওই দিন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট মারা যায় ৭৪ জন। গত ছয় দিন নগরে আক্রান্ত কিছুটা কমতে শুরু করে। একই সময়ে সংক্রমণ জেলায় বাড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ তা গত শুক্রবার (৫ জুন পর্যন্ত) এসে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে নগরে ৬ শতাংশ আক্রান্ত কমলেও ওই ৬ শতাংশ জেলায় বেড়েছে। এখন চট্টগ্রামের মোট করোনা আক্রান্ত রোগী তিন হাজার ৮০৬ জন। এর মধ্যে নগরে দুই হাজার ৭৯৫ জন (৭৩ শতাংশ) এবং জেলায় মোট শনাক্ত এক হাজার ১১ জন (২৭ শতাংশ)। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মোট ৯৩ জনের মধ্যে পুরুষ ৬৯ জন এবং নারী ২৪ জন। এর মধ্যে নগরে ৭৫ জন এবং জেলায় ১৮ জন মারা গেছে।

মন্তব্য