kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

আম্ফানে ভেঙেছে বাঁধ

জোয়ারে ডুবছে তিন শতাধিক পরিবার

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জোয়ারে ডুবছে তিন শতাধিক পরিবার

আম্ফানে ভেঙেছিল বাঁধ। গতকালের জোয়ারে সেই বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে একটি জনপদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ভেঙেছে বেড়িবাঁধ। অরক্ষিত হয়ে পড়েছে উপকূলের জনপদ। দিনে দুইবার ডুবছে বগী-গাবতলার তিন শতাধিক পরিবার। এ অবস্থায় জোয়ার-ভাটায় পূর্ণিমার প্রভাব শুরু হয়েছে। দুই দিন ধরে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে বলেশ্বর নদের জোয়ারের পানি হু হু করে ঢুকছে জনপদে। প্লাবিত হচ্ছে গ্রাম। বসতঘরের ভেতরে হাঁটুপানি। রান্না বন্ধ। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গ্রামের মানুষগুলো।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক গত ২৭ মে বাগেরহাটের শরণখোলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বগী-গাবতলার ভেঙে যাওয়া দুই কিলোমিটার বাঁধ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর আর কোনো তৎপরতা নেই। রিং বেড়িবাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় জলে ভাসা মানুষগুলো ক্ষুব্ধ।

বগী-গাবতলা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙা স্থান দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি প্লাবিত করছে। বগী সাতঘর এলাকার আবু সাইদ হাওলাদার, মাহাবুল হাওলাদার, ফুল মিয়া হাওলাদার ও কালাম হাওলাদার এবং গাবতলা এলাকার কামাল হাওলাদার, মোহাম্মদ খানসহ ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের পানিতে তাঁদের ডুবতে হচ্ছে। ঘরবাড়িতে থাকার কোনো উপায় নেই। ঘরের মধ্যে জোয়ারের পানি উঠে যাচ্ছে। চুলায় পানি জমে থাকায় অনেকের বাড়িতেই রান্নাবান্না হচ্ছে না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা বলেন, ‘মন্ত্রী এসে বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দিয়ে গেলেন, অথচ কাজের কোনো খবর নেই। এখন পানিতে ডুবে মরতে হচ্ছে আমাদের। এভাবে কোনো মানুষ বাস করতে পারে?’ 

বগী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত ও দক্ষিণ সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, তাঁদের দুই ওয়ার্ডের নদীসংলগ্ন তিন শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে তাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। আম্ফানের পর এ পর্যন্ত দু-তিন দফা তলিয়েছে। ভাঙন এলাকা দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে এলাকাটি মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বলেশ্বরপারের সহস্রাধিক মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। দ্রুত এই বাঁধের কাজ শুরু করার দাবি জানান তাঁরা।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, বগী-গাবতলার ওই দুই কিলোমিটার এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রিং বেড়িবাঁধ দেওয়ার কথা। এরই মধ্যে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রাথমিক জরিপ করেছেন। শিগগিরই কাজ শুরু হতে পারে।

সেনাবাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের ভাঙনকবলিত বগী-গাবতলা এলাকার দুই কিলোমিটারে রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারি আদেশ পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সেখানে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা