kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার হোতা ড্রোন হামলায় নিহত

অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই জিম্মি করে মিলিশিয়ারা

এখনো জিম্মি অবস্থায় অসংখ্য বাংলাদেশি

মেহেদী হাসান   

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই জিম্মি করে মিলিশিয়ারা

লিবিয়ায় গত সপ্তাহে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে হত্যার সন্দেহভাজন হোতা মিলিশিয়া নেতা খালেদ আল-মিশাই ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের বিমানবাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে লিবিয়া অবজারভার পত্রিকার ভেরিফায়েড টুইট অ্যাকাউন্ট থেকে এ কথা জানানো হয়। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার এবং অন্যদিকে বিদ্রোহী হাফতার বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে থাকে। গত সোমবার এমন একটি হামলায় হাফতার বাহিনীর অনুগত মিলিশিয়াদের গাড়িবহর ধ্বংস হয়। সেই বহরেই ছিল হাফতার অনুগত মিলিশিয়া বাহিনীর স্থানীয় নেতা খালেদ আল-মিশাই।

ত্রিপোলিতে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রগুলো এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে তারা বলেছে, এ ধরনের খবর তারাও দেখেছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার পর বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়ার ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়া সরকার এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে আশ্বাসও দিয়েছিল। এর পরও মিলিশিয়াদের চাপের মুখে স্থানীয়ভাবে ওই ২৬ বাংলাদেশির মরদেহ গত শনিবার তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়।

এদিকে লিবিয়ার বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই তারা অর্থ সংগ্রহের জন্য ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী বিদেশি কর্মীদের জিম্মি করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ায় চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। মিলিশিয়া বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক গ্রুপগুলো নিজ নিজ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। ওই এলাকাগুলোতে বন্দিশিবির পরিচালনাসহ সার্বিক দায়িত্ব তারা নিজেরাই নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে।

ওই কূটনীতিক বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগে আফ্রিকা থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার জন্য মানবপাচারকারীচক্র লিবিয়াকে নিরাপদ মনে করে। এ কারণে অবৈধভাবে ইউরোপ অভিমুখী বিদেশিদের লিবিয়ায় আনা হয়। লিবিয়ার বিদ্রোহী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো অবৈধভাবে ইউরোপের পথে রওনা হওয়া বিদেশিদের কাছে চাঁদা এবং জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে। মুক্তিপণ না পেলে মাসের পর মাস আটকে রেখে নির্যাতন চালানোর ঘটনাও ঘটে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, মানবপাচারকারীদের হাতে লিবিয়ায় আরো ১৯ বাংলাদেশি জিম্মি আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে এখনো অনেক বাংলাদেশি জিম্মি অবস্থায় আছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে এখনো অসংখ্য বাংলাদেশি জিম্মি অবস্থায় আছে। ওই এলাকাগুলোর ওপর ত্রিপোলিভিত্তিক লিবিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। বাংলাদেশসহ মাত্র তিনটি দেশ এখনো লিবিয়ায় দূতাবাস কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্য দেশগুলো তাদের দূতাবাস অন্য দেশে সরিয়ে নিয়েছে। তবে দূতাবাস থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে এর কর্মীদের চলাচলের ওপর অনেক বিধি-নিষেধ রয়েছে। কয়েক মাস আগে ত্রিপোলি সামরিক একাডেমিতে বিদ্রোহীদের বিমান হামলায় অন্তত ৯২ জন ট্রেইনি মিলিটারি ক্যাডেট নিহত হন। ওই একাডেমির অবস্থান বাংলাদেশ দূতাবাসের খুব কাছে।

ইউরোপ অভিমুখী বা বিদেশি কর্মীদের জিম্মি করার খবর অতীতে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এসেছে। মিলিশিয়াদের নেতৃত্বে থাকা খলিফা হাফতারের সঙ্গে কিছু দেশের যোগাযোগও আছে।

গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইউরোপ অভিমুখী স্রোত ঠেকাতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ লিবিয়ায় দিয়েছে তার একটি অংশ মিলিশিয়ারাও পেয়েছে। বন্দিশিবিরগুলোর উন্নয়ন ও মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে ওই অর্থ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সেখানে গেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা