kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

এশিয়ায় সুস্থতার হার সর্বোচ্চ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এশিয়ায় সুস্থতার হার সর্বোচ্চ

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পাঁচ মাস পার হলেও দৈনিক আক্রান্তের হার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। তবে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দুটি ইতিবাচক প্রবণতা পাওয়া গেছে। প্রথমত, দৈনিক মৃত্যুর হারের বিপরীতে দৈনিক সুস্থতার হার খানিকটা বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, সংকটাপন্ন রোগীর হারও কমেছে অনেকটা। এদিকে অঞ্চলগত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এশিয়ায় সুস্থতার হার সবচেয়ে বেশি। আবার মৃত্যুর হারও এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ-অঞ্চলের ৬২ লাখ মানুষের মধ্যে ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’ (কভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ৭০ হাজারের বেশি। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। চার লাখ ছাড়িয়েছে ইউরোপের দেশ রাশিয়ায়। এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে পাশের দেশ ভারতে।

মৃত্যুর বিপরীতে সুস্থতা বেড়েছে

সর্বশেষ আড়াই মাসের মধ্যে গত শনিবার দৈনিক মৃত্যুর বিপরীতে সুস্থতার হার ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিন সুস্থ হয় ৭৮ হাজার ৪০২ জন। মৃত্যু হয় চার হাজার ৮৪ জনের। অর্থাৎ এদিন সুস্থতার হার ছিল ৮৮.০৭ শতাংশ। মৃত্যুর হার ছিল ১১.৯৩ শতাংশ। আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুর বিপরীতে সুস্থতার হার সবচেয়ে কম ছিল ১০ এপ্রিল; ৭৭.৭৩ শতাংশ।

এদিকে বিশ্বে সংকটাপন্ন রোগীর হারও কমছে। পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্বে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯ জন। এদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ ছিল ৩০ লাখ পাঁচ হাজার ৬১৫ জনের (৯৮ শতাংশ)। বাকি ৫৩ হাজার ৪৫৪ জনের (২ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত পাঁচ মাসের মধ্যে সংকটাপন্ন রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ২৯ এপ্রিল; ৫৯ হাজার ৮১৭ জন।

এশিয়ায় সুস্থতার হার সর্বোচ্চ

ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা অঞ্চলের চেয়ে সুস্থতার হার সবচেয়ে বেশি এশিয়ায়। এ অঞ্চলে করোনা রোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ২৪ হাজার ৫৩০। এর মধ্যে সেরে উঠেছে ছয় লাখ ৮৩ হাজার ৫৪৪ জন। সুস্থতার হার ৬০.৩৮ শতাংশ। ইউরোপে আক্রান্ত ২০ লাখের বিপরীতে সেরে উঠেছে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ২৮১ জন। সেখানে সুস্থতার হার ৪৮.৮৪ শতাংশ। উত্তর আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭ জন। সেরে উঠেছে ছয় লাখ ৭০ হাজার ৬০৭ জন। সুস্থতার হার ৩২.৮০ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় এ হার যথাক্রমে ৪০.৮৪ এবং ৪২.৫৯ শতাংশ।

মৃত্যুর হারও এশিয়ায় সবচেয়ে কম; ২.৭১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ইউরোপে; ৮.৬১ শতাংশ। উত্তর আমেরিকায় এ হার ৬.০৫ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় মৃত্যুর হার যথাক্রমে ৪.৬৪ এবং ২.৮৪ শতাংশ। তবে সংকটাপন্ন রোগীর হার এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি; ৩.২৯ শতাংশ। সবচেয়ে কম আফ্রিকায়; ০.৪৫ শতাংশ।

দেশে দেশে করোনাচিত্র

আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষে রয়েছে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ছয় হাজার। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় গত শনিবার; ৩০ হাজার ১০২ জন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছুঁইছুঁই। আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে পেরু, চিলি, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোতে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। পাশের দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় গত শনিবার; আট হাজার ৩৩৬ জন। সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকায় নবম স্থানে থাকা এ দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মানুষের। চীনে গতকাল শনাক্ত হয়েছে দুজন।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬২ লাখ আট হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত শনিবার; এক লাখ ২৪ হাজার ১০৩ জন। মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৭২ হাজার ৫১ জনের। সুস্থ হয়েছে ২৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯৭ জন। বিশ্বের প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৫ জন। বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ৫.৯৯ শতাংশ। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা