kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বিশ্বে আক্রান্তের হার বাড়ছেই

► যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু লাখ ছাড়িয়েছে
► সবচেয়ে ঝুঁকিতে লাতিন আমেরিকা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বে আক্রান্তের হার বাড়ছেই

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। বিজ্ঞান, অর্থনীতি, চিকিৎসাব্যবস্থা কিংবা সামরিক সক্ষমতাসহ ‘আধুনিকতার’ প্রায় সব সূচকে এগিয়ে থাকা দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখের বেশি। এদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। গত এক সপ্তাহে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হার ছিল তুলনামূলক বেশি। যদিও জীবিকার প্রয়োজনে লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হচ্ছে বেশির ভাগ দেশ।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ-অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৫৮ লাখ মানুষের মধ্যে ‘করোনাভাইরাস ডিজিস ২০১৯’ (কভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজারের কাছাকাছি। ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে পাশের দেশ ভারতে। অঞ্চলগত হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে।

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু লাখ ছাড়িয়েছে

গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ দুই হাজার ১১৪ জনে, যা বৈশ্বিক মৃত্যুর ২৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দেশটিতে গত এক মাসে (২৭ এপ্রিল থেকে ২৭ মে) মৃত্যু হয়েছে ৪৫ হাজার ৩১২ জনের। অর্থাৎ, দেশটিতে গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ৫১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের এক মাসে (২৭ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল) এই গড় ছিল এক হাজার ৮২২। সেই হিসাবে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর হার কমেছে। কিছুটা কমেছে আক্রান্তের হারও। দেশটিতে গত এক মাসে (২৭ এপ্রিল থেকে ২৭ মে) আক্রান্ত হয়েছে সাত লাখ ৩৫ হাজার ৪৪৭ জন। অর্থাৎ, দেশটিতে গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে ২৪ হাজার ৫১৪ জনের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। আগের এক মাসে (২৭ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল) এই গড় ছিল ৩০ হাজার ১৭১।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি

পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর বৈশ্বিক হার গত এক সপ্তাহে বেড়েছে। ২১ থেকে ২৭ মে—এই সাত দিন বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ছয় লাখ ৯৯ হাজার ১৫৪ জন। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আগের সাত দিন (১৪ থেকে ২০ মে) এই সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৪৯১। অন্যদিকে গত এক সপ্তাহে (২১ থেকে ২৭ মে) বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯৮ জনের। আগের সপ্তাহে (১৪ থেকে ২০ মে) মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৭৭৬ জনের। সব মিলিয়ে গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৬ জন। মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৫৯ হাজার ৫৩২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৯৫ জন। চিকিৎসাধীন আছেন ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫১৯ জন। এদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে ২৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩৪ জনের (৯৮ শতাংশ)। বাকি ৫২ হাজার ৯৮৫ জনের (২ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া বিশ্বের প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪৭ জন। বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

দেশে দেশে পরিস্থিতি

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত বুধবার দেশটিতে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত হয়; সাত হাজার ২৯৩ জন। একই দিন সর্বোচ্চ মৃত্যুও (১৯০ জন) ঘটে সেখানে। সব মিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ৫৯ হাজার ৫৪ এবং চার হাজার ৫৪১ জনে। পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ২২৭ জনে। মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ২৬০ জনের।

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। বিশেষ করে ব্রাজিল, পেরু ও চিলিতে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ব্রাজিল। সেখানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার লাখ ১৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ২২ হাজার ৩০১ জন শনাক্ত হয় গত বুধবার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগস্টের মধ্যেই ব্রাজিলে অন্তত এক লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। পেরুতে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০৫ জনের মধ্যে। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ছয় হাজার ১৫৪ জন শনাক্ত হয় গত বুধবার। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) আঞ্চলিক পরিচালক (লাতিন আমেরিকা) মিগুয়েল ব্যারেতো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ওই অঞ্চলের অন্তত এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা