kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

জামাল খাশোগির হন্তারকদের ক্ষমা করে দিলেন ছেলেরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামাল খাশোগির হন্তারকদের ক্ষমা করে দিলেন ছেলেরা

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন তাঁর ছেলেরা। গতকাল শুক্রবার টুইটের মাধ্যমে এ কথা জানান খাশোগির এক ছেলে সালাহ খাশোগি। তাঁদের ক্ষমা ঘোষণার মধ্য দিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের মুক্তি নিশ্চিত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সালাহ খাশোগি গতকাল টুইটারে লেখেন, ‘আমরা শহীদ জামাল খাশোগির ছেলেরা মঙ্গলময় (রমজান) মাসের এ পবিত্র রাতে ঘোষণা করছি, আমাদের বাবার হত্যাকারীদের আমরা ক্ষমা ও মার্জনা করছি।’

খাশোগির ছেলেদের এ ঘোষণার জেরে সাজাপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে কোনো আইনি প্রভাব পড়বে কি না, তা তাত্ক্ষণিক নিশ্চিত করেনি সৌদি সরকার। সমালোচকদের মত অবশ্য ভিন্ন।

বলা দরকার, শরিয়াহ আইন অনুসারে বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করার অধিকার খাশোগির ছেলেদের আছে। এ ছাড়া হত্যাকারীদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারও তাঁদের আছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে সৌদি আরবের সরকারঘেঁষা লেখক ও বিশ্লেষক আলী শিহাবি টুইটারে জানান, ক্ষমা ঘোষণার মানে হলো খাশোগির হত্যাকারীরা অবধারিতভাবে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেতে যাচ্ছে।

খাশোগির বাগদত্তা হাতিস সেনগিজ ওই ক্ষমা ঘোষণার ঘোর বিরোধিতা করে টুইটারে লিখেছেন, খাশোগির হত্যাকারীদের ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই। তিনি আরো লিখেছেন, ‘যারা হত্যা করেছে আর যারা হত্যার নির্দেশ দিয়েছে, তাদের কাউকে আমরা ক্ষমা করব না।’

একসময় সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও পরে তাদের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন সাংবাদিক খাশোগি। তাঁর কট্টর সমালোচনার জেরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে থাকে। সৌদি শাসকগোষ্ঠীর এই কট্টর সমালোচক একসময় দেশান্তরিত হন। মৃত্যুর আগে কাজ করতেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক হিসেবে।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর তাঁকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করা হয় এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়। ওই হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। রিয়াদ থেকে আসা ১৫ গুপ্তচরের একটি দল তাঁকে হত্যায় জড়িত বলে সে সময় দাবি করে আংকারা। খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর দাবি ওঠে।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সৌদি সরকার ওই ঘটনায় ১১ জনকে বিচারের আওতায় আনে। তবে তাদের বেশির ভাগের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বিচারে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে সর্বমোট ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সালাহ এর আগে জানিয়েছিলেন, বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে সৌদি বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর ‘সম্পূর্ণ আস্থা’ আছে। সমালোচকরা তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

চলতি বছরের এপ্রিলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, খাশোগির সন্তানরা সৌদি সরকারের কাছ থেকে কয়েক কোটি ডলার মূল্যের বাড়ি পেয়েছেন, এমনকি তাঁদের প্রতি মাসে কয়েক হাজার ডলার করে ভাতাও দেওয়া হচ্ছে। সালাহ অবশ্য সৌদি সরকারের সঙ্গে কোনো রকম আর্থিক বোঝাপড়ায় যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর অধ্যাপক বেসমা মোনামি মনে করেন, যারা খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের দিক থেকেই চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে থাকায় বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা ঘোষণার মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন সন্তানরা। সৌদি রাজপরিবারের দিক থেকে এখনো খাশোগির সন্তানদের এমন চাপের মুখে থাকা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন এ অধ্যাপক।

সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য