kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

ঈদ কেনাকাটা

জমেনি আতর টুপি তসবিহর বাজার

রোকন মাহমুদ   

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমেনি আতর টুপি তসবিহর বাজার

সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই নেই। রাজধানীর একটি এলাকায় গতকাল ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত লোকজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিবছর ঈদের তিন-চার দিন আগে নতুন জামা-জুতা কেনা শেষে সাধারণ মানুষ ছুটত আতর-টুপির দোকানে। দেশি-বিদেশি বাহারি সব আতর-টুপির পাশাপাশি কিনত তসবিহ ও জায়নামাজ। কিন্তু এবার করোনার প্রাদুর্ভাব সব হিসাব এলোমেলো করে দিয়েছে। জমেনি আতর, টুপি, তসবিহ আর জায়নামাজ বেচাবিক্রি।

এসব পণ্যের পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার চকবাজার। কিন্তু রোজার মাঝামাঝি যখন পাইকারি বেচা-বিক্রির সময় ছিল, তখন সব ছিল বন্ধ। ফলে পাইকারি ব্যবসাও এবার হয়নি। একই অবস্থা খুচরা বাজারে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দোকান খোলার অনুমতি দিলে একটা আশা দেখেছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাঁদের সেই আশা পূরণ হয়নি। বিশেষ করে আতর ও টুপির বড় বাজার বায়তুল মোকাররম মার্কেটের ব্যবসায়ীরা খুব হতাশ। এখানকার ফুটপাতের দোকানগুলো খুললেও বেচা-বিক্রি নেই। দোকানিরা বলছেন, এসব হলো শৌখিন পণ্য। মানুষের কাছে অতিরিক্ত টাকা থাকলে এসব পণ্য কিনতে আসে। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবার কেউ এসব শৌখিন পণ্য কিনতে যায়নি। প্রয়োজনের তাগিদে যারা ঘর থেকে বের হয় তাদের কেউ কেউ এসব দোকানে আসে। তাতে সামান্য বেচা-বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের চারপাশ ঘুরে দেখা যায়, মার্কেট বন্ধ থাকলেও ফুটপাতের দোকানগুলো খোলা রয়েছে। টেলিফোন ভবন ও বায়তুল মোকাররম জুয়েলারি মার্কেটের মাঝের রাস্তায় বসেছে টুপি ও জায়নামাজের দোকান। মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মূল সড়কেও রয়েছে দোকানপাট। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার পার্কিংয়ের সামনে বিক্রি হচ্ছে তসবিহ, আতরসহ বেশ কিছু পণ্য। বিক্রেতারা হাঁকডাক দিচ্ছেন। কিন্তু ক্রেতা প্রায় শূন্য।

বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে টুপি বিক্রেতা আব্দুল আলিমের সঙ্গে কথা হয়। ‘বউ পোলাপান  নিয়া কষ্টে আছি। তাই দোকানটা খুলছি। কিন্তু বিক্রি নাই। আমাদের সারা বছর যা বিক্রি হয় তার অর্ধেকের বেশি হয় এই ঈদে। কিন্তু এবার মার্কেট বন্ধ, তার ওপর মসজিদেও তেমন লোক আয়ে না। এমন টুকটাক বিক্রি দিয়া তো চলে না।’

টুপি, জায়নামাজ বিক্রেতারা জানান, বায়তুল মোকাররমের ফুটপাতের দোকানদারও ঈদের আগে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। আর স্থায়ী দোকানগুলোয় তার সাত-আট গুণ বেশি বিক্রি হতো। এবার ১০ শতাংশও বিক্রি হয়নি। একই অবস্থা নিউ মার্কেট, ইস্টার্ন প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, মৌচাক মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন এলাকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা