kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

অনন্ত জলিল বললেন

অন্যায্য সমালোচনা করে দেশের ক্ষতি করবেন না

এম সায়েম টিপু   

১৬ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্যায্য সমালোচনা করে দেশের ক্ষতি করবেন না

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখেও নানা সমালোচনার শিকার হচ্ছেন বলে জানালেন এজিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অনন্ত জলিল। তিনি বলেছেন, দয়া করে সমালোচনার মাধ্যমে গার্মেন্ট মালিকদের নিরুৎসাহিত করে দেশের ক্ষতি করবেন না। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর  সমন্বয়ে নতুন গার্মেন্ট নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। চলচ্চিত্র অভিনেতার বাইরেও অনন্ত জলিলের বড় পরিচয় তিনি পোশাক খাতের সফল উদ্যোক্তা।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মার্চ মাসের মজুরি নিয়ে জটিলতা ও এই সংক্রমণের সময় কাজ করতে বাধ্য করা—এমন নানা বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর জবাব দিতে গিয়ে পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে অনন্ত জলিল আবারও আলোচনায় ওঠে আসেন।  

তিনি বলেন, ‘একটি পোশাক কারখানা তৈরি করা থেকে পরিচালনা করা পর্যন্ত অনেক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয় একজন উদ্যোক্তাকে। নিজেদের স্থাবর সম্পদ ব্যাংকে মর্টগেজ রাখতে হয়, মজুরি দিতে না পেরে কখনো কখনো স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে হয়। কাজ পেতে ক্রেতা সন্তুষ্টির গল্প আরো করুণ। ’

অনন্ত জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় দুঃসময় শুরু হয় রানা প্লাজা ধসের পর। এর ফলে বিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর পরই দেশের উদ্যোক্তাদের ওপর নেমে আসে ক্রেতা জোটসমূহের খড়্গ। কারখানা সংস্কারে উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোট সংগঠন অ্যালায়েনস এবং ইউরোপের ক্রেতা জোট অ্যাকর্ডের আবির্ভাব ঘটে। তাদের কথা মতো কাজ করতে গিয়ে মালিকদের কোটি কোটি টাকা খরচ করতে হয়। অনেক মালিক কিছু বিতর্কিত এবং তাদের চাপানো কাজ করতে গিয়ে আজ সর্বস্বান্ত। ’ 

তিনি বলেন, ‘মজুরি নিয়মিত করা এবং বৃদ্ধির বিষয়টি ক্রেতারা নজরদারি করলেও পোশাকের দাম বাড়াননি এক সেন্টও,  উল্টো কমেছে। গত সাত বছরে বিশ্ব বাজারে পোশাকের দাম কমেছে ৩০ শতাংশের বেশি। ’ পোশাকের নায্য দাম নিয়ে নীতিমালা করার সময় এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পণ্যের কোড অনুযায়ী সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে নীতিমালা তৈরি করতে হবে। ’

অর্থনীতিতে পোশাক খাতের অবদান তুলে ধরে এজিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের মোট রপ্তানি আয়ে এই খাতের অবদান ৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় হয়েছে তিন হাজার ৪০০ কোটি ডলার।  অথচ যাদের দেশের অর্থনীতিতে কোনো অবদান নেই  তাদের মুখেই সমালোচনার ফুলঝুরি। ঘরে বসে ভিডিও করে হিরো হতে চাচ্ছেন। যেখানে অর্থনীতিতে আপনাদের কোনো অবদান নেই সেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে এ ধরনের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। সমালোচনা করার পরিবর্তে দেশের জন্য কিছু একটা করে রোল মডেল হয়ে যান, যাতে মানুষ আপনাকে অনুসরণ করতে পারে। দয়া করে কোনো ধরনের তির্যক বক্তব্যের মাধ্যমে গার্মেন্ট মালিকদের নিরুৎসাহিত করে দেশের ক্ষতি করবেন না। ’

 



সাতদিনের সেরা