kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মার্কেটে ক্রেতা নেই বিক্রেতারা হতাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কেটে ক্রেতা নেই বিক্রেতারা হতাশ

ঢাকার বেশির ভাগ মার্কেটেই ক্রেতার দেখা মিলছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন বেচাকেনা তাঁদের ধারণার চেয়েও কম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতাসমাগমের দৃশ্য যেমন চোখে পড়ে তেমনি আচরণবিধি না মানারও প্রবণতা লক্ষ করা যায়। রাজধানীর সুবাস্তু নজরভ্যালির সামনে থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঈদ সামনে রেখে করোনার ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীতে খোলা থাকছে কিছু বিপণিবিতান। খোলা থাকা কিছু বিপণিবিতানে করোনা সংক্রমণ রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। তবে আশানুরূপ ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ছোটখাটো বিপণিবিতানগুলোতে কিছু ক্রেতার দেখা মিললেও নগরীর বেশির ভাগ মার্কেট প্রায় ফাঁকা।

বিজ্ঞাপন

একই অবস্থা নামিদামি চেইন শপগুলোতেও। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার মধ্যে খুব বেশি ক্রেতা হবে না, তা তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরও যে আশা করেছিলেন, তার থেকেও ৩০-৪০ শতাংশ কম ক্রেতা পাচ্ছেন তাঁরা। প্রাণঘাতী করোনা আতঙ্কে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি নগরবাসী কেনাকাটায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এ ছাড়া হাতে নগদ টাকা না থাকায় বেশির ভাগ মানুষ এখনো মার্কেটমুখী হয়নি। আর এ কারণে এ বছর ঈদে বেচাকেনা নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা। তবে ঈদের আগমুহূর্তে মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ঈদ সামনে রেখে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে গত সপ্তাহে সীমিত আকারে মার্কেট ও শপিং মল খোলার বিষয়ে ঘোষণা দেয় সরকার। তবে সরকারি ঘোষণার পরও রাজধানীর বড় বড় শপিং মল না খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন পরিদর্শনে রাজধানীর নয়াপল্টনে গাজী সুপার মার্কেটসহ আশপাশের অভিজাত কয়েকটি মার্কেট খোলা দেখতে পাওয়া যায়। এসব মার্কেটের বেশির ভাগ দোকানেই চোখে পড়েছে স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা। মার্কেটের প্রবেশমুখে জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক মার্কেটে তাপমাত্রা মেপে ক্রেতাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান, পল্টনসহ মিরপুর-১, ২, ১০, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া এলাকায় ছোটখাটো মার্কেট ও পাড়া-মহল্লার দোকানপাট খোলা দেখা গেছে। তবে এসব মার্কেটে ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। যারাও বা আসছে দরদাম করে চলে যাচ্ছে।

এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ঈদ মৌসুমে প্রতিবছর এ সময় ক্রেতাদের ভিড়ে পা ফেলার জায়গা থাকে না। সারা বছরের অর্ধেকের বেশি পণ্যসামগ্রী বিক্রি হয় ঈদ বাজারে। এবার করোনার কারণে সেই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, চার দিন ধরে মার্কেট ও শপিং মলগুলো খুলে দেওয়া হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম। বেচাকেনা নেই বললেই চলে। তিনি

বলেন, শুধু মানবিক কারণে ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মার্কেট ও শপিং মল খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।

গত ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্ত সাপেক্ষে রাজধানীর শপিং মল ও বিপণিবিতান খোলার অনুমতি দেয় সরকার। তবে করোনা মোকাবেলা ও সংক্রমণ রোধে ঈদের আগে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ার সব পাইকারি মার্কেট, নিউ মার্কেট, মৌচাক ও আনারকলি মার্কেট বন্ধ রয়েছে। নিউ মার্কেটের পাশাপাশি গাউছিয়া, চাঁদনী চক, হকার্স মার্কেট ও চন্দ্রিমা মার্কেটও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এসব মার্কেটের দোকান মালিক সমিতি।

তবে খোলা রয়েছে আড়ংয়ের মতো চেইন শপগুলো। জানতে চাইলে এ বিষয়ে আড়ংয়ের প্রধান অপারেটিং অফিসার মো. আশরাফুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিক্রি প্রত্যাশা অনুসারে হয়নি। আমাদের ১৪টি আউটলেটে স্লট নির্ধারণ করা কাস্টমারও কম আসছে। এখন পর্যন্ত সর্বসাকল্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাস্টমার পাচ্ছি আমরা। ’ তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আউটলেট খোলা রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

 

 



সাতদিনের সেরা