kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

অবাঙালি ক্যাম্পে গায়ে গায়ে মানুষ

সামাজিক দূরত্ব মানা দুষ্কর, সহায়তা দিতে আহ্বান

লায়েকুজ্জামান   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবাঙালি ক্যাম্পে গায়ে গায়ে মানুষ

মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর সেকশনে ছোট-বড় অনেকগুলো অবাঙালি ক্যাম্প। সরকারের হিসাবে ক্যাম্পের সংখ্যা ২৬। অবাঙালিদের নেতাদের দাবি, এখন ক্যাম্প আছে মোট ৪১টি। ক্যাম্পগুলোর অবস্থান সবই পল্লবী থানায় ও ঢাকা-১৬ আসনে। এ আসনে অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা এক লাখ। আর জনসংখ্যা পাঁচ লাখের কিছু বেশি।

স্বাধীনতার পর অবাঙালিদের বেশির ভাগই ক্যাম্প করে থাকতে শুরু করে। প্রতিটি পরিবারের জন্য জায়গা পায় ১০ বর্গফুট। একাত্তর সালের পর জনসংখ্যা বাড়লেও জায়গা বাড়েনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অবাঙালি ক্যাম্পগুলোতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলছেন, যেখানে শোয়া-বসার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই, সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিভাবে সম্ভব? তাঁরা আরো বলেছেন, সাধারণ ছুটি ও দোকানপাট (মুদি, কাঁচাবাজার ও ওষুধ বাদে) বন্ধ রাখতে বলায় আবাঙালিদের জীবনধারণও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে মিরপুরের অবাঙালি ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, ঘরে বসার জায়গা নেই। ভেতরের ছোট ছোট গলির মধ্যে গাদাগাদি করে বসে আছে নারী ও পুরুষরা। শিশু-কিশোরদের বেশির ভাগ চলে আসছে সড়কে।

জানা গেছে, মিরপুরের অবাঙালিদের বেশির ভাগ বেনারসি পল্লীতে কারচুপির কাজ করে, এ ছাড়া চায়ের দোকান, সেলুন, হকারি ও অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা সংগ্রহ করে। বেশির ভাগই বেকার হয়ে গেছে।

মিল্লাত ক্যাম্পের শামীম, নাদিম শওকত, রাব্বি, জায়েদুল, সালাউদ্দিন, আয়েশা, আকবর, বাবর, জামিলসহ শতাধিক পরিবারের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা এখন পর্যন্ত কোনো খাদ্য সহায়তা বা করোনা প্রতিরোধ সমাগ্রী পাননি। প্রায় অনাহারে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

মিরপুরে অবাঙালিদের তিনটি সংগঠন কাজ করে। এর মধ্যে একটি হলো বিবিআরএ (বাংলাদেশি বিহারি রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাসেম্বলি বা বাংলাদেশি বিহারি পুনর্বাসন সংসদ)। এ সংগঠনের নেতা নেয়াজ আহমেদ খান। তিনি বাংলাদেশ ন্যাপের (ভাসানী) মহাসচিব। ইউএসপিওয়াইআরএন (উর্দু স্পিকিং পিপল রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট) নামের আরেকটি সংগঠনের সভাপতি শাহাদত হোসেন খান। অন্যটি হলো এসপিজিআরসি (স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি জেনারেল রিপ্যাট্রিয়েশন কমিটি)। সংগঠনটির প্রধান কাদের খান। মিরপুর এলাকায় এ সংগঠনের সভাপতি হাজি মোহম্মাদ আলী। বাংলাদেশের ১৩টি জেলায় অবাঙালিদের মোট ৭৬টি ক্যাম্প রয়েছে।

বিবিআরএর প্রধান পৃষ্ঠপোষক নেয়াজ আহমেদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিরপুরের ৪১টি বিহারি ক্যম্পেই এখন অভুক্ত অবস্থা। প্রায় সবাই বেকার। কারো ঘরে খাবার নেই। এরা যেসব পেশার সঙ্গে জড়িত তার সবগুলো এখন বন্ধ। কিন্তু সরকারের কাছে কোনো হিসাব নেই যে কার আয় কত, কাকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা করা প্রয়োজন। এমন তালিকা ছাড়া আসলে খাদ্য সহায়তাও প্রকৃত অসহায়ের হাতে পৌঁছবে না।’

ইউএসপিওয়াইআরএনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত তিনবার ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি নেওয়া হয়েছে ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে। তবে ১৪ দিন হয়ে গেল আমরা কোনো সহায়াতা পাইনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিহারি ক্যাম্পের লোকগুলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে কিভাবে, ক্যাম্পে তো গায়ে গায়ে মানুষ। পরিবারের কজন ঘুমায় আবার কজন জেগে থাকে। এভাবে পালাক্রমে ঘুমাতে হয়। এ অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব ঠিক রাখা কী করে সম্ভব।’

মিল্লাত ক্যাম্পের রনি নামের এক যুবক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার চায়ের দোকান ছিল, এখন বন্ধ। পরিবারের চারজন লোক নিয়ে না খেয়ে আছি। খাবার না পেলে র‌্যাব-পুলিশ মারলেও আমাকে দোকান খুলতে হবে। এ ছাড়া উপায় কী?’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা