kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা নিয়ে গবেষণায় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

শরীফুল আলম সুমন   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনা নিয়ে গবেষণায় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান

গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে কভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর তা নিয়ে গবেষণা শুরু হয় সারা বিশ্বে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ওষুধ প্রস্তুতকারী কম্পানির গবেষক এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে শুরু করেন এই গবেষণা। তবে এখনো নভেল করোনার কোনো প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। তবে অনেক দেশই করোনা শনাক্ত করার কিট বানিয়েছে। ভাইরাসটির গতি-প্রকৃতি, লক্ষণ এবং প্রতিরোধ করার উপায় নিয়েও নানা তথ্য প্রকাশ করেছেন অনেক গবেষক। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। করোনা শনাক্তকরণ কিট তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটিসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান করোনা প্রতিরোধের উপায় বের করতে গবেষণা করছে।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে দেড় শতাধিক। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজই হলো গবেষণা। তাই করোনা নিয়ে গবেষণায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আরো বেশি ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

গত মাসে কভিড-১৯ পরীক্ষার সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করার কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গত ১৯ মার্চ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে কিট তৈরির উপাদান আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, গত রবিবার চীন থেকে কিট তৈরির উপাদান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এসে পৌঁছেছে। এখন তাঁরা উৎপাদনে যাবেন।

জানা যায়, কিট তৈরির এই গবেষকদলের নেতৃত্বে আছেন ড. বিজন কুমার শীল। তিনি ২০০৩ সালে সার্স পিওসি কিট প্রস্তুতকারক দলের সদস্য ছিলেন।

ডুয়েটের তিন অধ্যাপকের দাবি, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের একটি কৌশল বের করেছেন তাঁরা। গবেষণায় তাঁরা দেখতে পান, ভাইরাসের মধ্যে কার্বোক্সিল ও অ্যামাইনো গ্রুপ আছে। এটি অকার্যকর ও নিষ্ক্রিয় করতে প্রভাব রয়েছে হাইডোক্সিল গ্রুপের। উদ্ভিদের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে হাইড্রোক্সিল আছে বলে তাঁদের গবেষণায় বেরিয়ে আসে। এর সঙ্গে আরো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত করে বিশ্বমানের করোনা নিরোধক ওষুধও তৈরি করা যেতে পারে। গবেষকদলের প্রধান ডুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা মূলত একটি মেকানিজম ডেভেলপ করেছি। মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা এই মেকানিজম ব্যবহার করে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ তৈরির চেষ্টা করতে পারেন। এমনকি অ্যান্টিভাইরাল পোশাক তৈরি করাও সম্ভব। এরই মধ্যে এই গবেষণাপত্র দুটি আন্তর্জাতিক জার্নালে জমা দিয়েছি।’

দেশের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের দাবি, কভিড-১৯ শনাক্ত করার কিট বানাতে সক্ষম তারা। গুণগত মান পরীক্ষার জন্য গত ২৩ মার্চ আইইডিসিআরে নমুনা জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ কিট সরবরাহ করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের তৈরি কিটের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের দাবি, ৫০ হাজার কিট এরই মধ্যে উৎপাদন করেছেন তাঁরা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ হোসেন বলছেন, প্রতিটি কিট উৎপাদনে এক হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও সরকারকে বিনা মূল্যে দিতে চান তাঁরা। 

আইইডিসিআরের পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, গ্লোব বায়োটেকের কিটের সক্ষমতা পরীক্ষা হচ্ছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইউনিট এবং কার্ডিওকেয়ার জেনারেল ও স্পেশালাইজড হাসপাতালের ৯ জন গবেষক এমন একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছেন, যা রোগীর বুকের এক্স-রে এবং ফুসফুসের সিটিস্ক্যানের ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে কভিড-১৯ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে শতকরা ৯৬ ভাগ সঠিকভাবে কভিড-১৯ রোগ নির্ণয় করা যাবে বলে গবেষকদের দাবি।

গবেষকদলের প্রধান ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু নাসের জাফর উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা www.helpus.ai  নামে একটি ওয়েবসাইটও তৈরি করেছি। ডাক্তাররা এই ওয়েবসাইটে রোগীর এক্স-রের ছবি আপলোড করার মাধ্যমে কভিড-১৯সহ যেকোনো ফুসফুসজনিত রোগ শনাক্ত করতে পারবেন।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করতে সক্ষম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অত্যাধুনিক গবেষণাগার জিনোম সেন্টার। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রোগীর নমুনা, কিট এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) দিলে আমরা এখনই পরীক্ষা করে ফল প্রসেসিং করে দিতে পারব। করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য যত রকম অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন সবই আমাদের আছে। আমাদের আলাদা কোনো জনবলের প্রয়োজন নেই। আমি এ বিষয়টি যশোরের জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনকে জানিয়েছি। এরই মধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট দল আমাদের ল্যাব পর্যবেক্ষণ করেছে।’

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ডাক্তারদের সহকারী হিসেবে ব্যবহারের জন্য ‘সেবক’ নামে একটি রোবট তৈরি করেছেন সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। রোগীকে সময়মতো ওষুধ খাওয়ানো, বাথরুমে নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় কাজ করবে এই রোবট। এই রোবটের মাধ্যমে চিকিৎসক তাঁর কক্ষে বসেই সেবা দিতে পারবেন রোগীকে। এতে কমবে ডাক্তার ও নার্সের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার চাইলে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পাওয়া গেলে এটি উৎপাদন করে হাসপাতালে সরবরাহ করা সম্ভব। একটি রোবট তৈরি করতে পাঁচ-ছয় দিন লাগতে পারে। খরচও খুব বেশি হবে না।’

জাপানের ফুজি ফিল্মের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তোয়ামা

কেমিক্যাল ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য একটি ওষুধ তৈরি করেছিল। চীন জানিয়েছে, ওষুধটি করোনা রোগের চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও বীকন ফার্মা ওই ওষুধটি তৈরি করে রেখেছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুততম সময়েই তা পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন এবং সরকারকে সরবরাহ করা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা