kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

করোনায় দেশীয় ক্ষুদ্র শিল্পের সুযোগ

রফিকুল ইসলাম   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় দেশীয় ক্ষুদ্র শিল্পের সুযোগ

উঠতি অর্থনীতির দেশ হিসেবে ছোট-বড় সব শিল্পের কাঁচামাল আমদানি হয়। তৈরি পোশাকসহ বড় শিল্পে আমদানি প্রয়োজন হলেও নিজেদের কাঁচামাল থেকে পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। তবু নানা কারণে দেশের বাইরে থেকে এসব পণ্যের আমদানি চলছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিদেশ থেকে পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি বন্ধ থাকায় দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সম্ভাবনা দেখছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। করোনা প্রভাব মোকাবেলা করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা গেলে ছোট এই শিল্পগুলোর বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

সূত্র জানায়, মানুষের নিত্য ব্যবহার্য থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য এখন দেশেই উৎপাদন সম্ভব। কিছু শিল্পের কাঁচামাল আমদানি প্রয়োজন হলেও হস্তশিল্প পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য, প্লাস্টিক এবং হ্যান্ডিক্রাফট ও ফ্যাশন ডিজাইন পণ্যের দেশে কাঁচামালের পর্যাপ্ততা রয়েছে। এসব শিল্পের বিদেশি পণ্য ও কাঁচামাল দেশে না এলেও দেশীয় বাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পণ্যের আধিপত্য বাড়বে। আমদানির বদলে দেশীয় পণ্যে সুযোগ সৃষ্টি হবে। পণ্যে স্বনির্ভরতা বা অর্জনও বড় সুযোগ বলছেন কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনার কারণে এখন বিদেশি পণ্য আমদানি বন্ধ। কাঁচামালও আসছে না। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে বড় মূলধনী শিল্প। স্বল্প পুঁজির ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও সেই ক্ষতি থেকে বাদ যাননি। এ শিল্পে পণ্যের চাহিদা ও জোগান চেইন ভেঙে পড়ায় উদ্যোক্তাদের মূলধন আটকে গেছে। তাঁদের মতে, করোনা পরিস্থিতি উত্তরণ হলে দেশে সব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হবে। সে ক্ষেত্রে ছোট শিল্পগুলো নিজস্ব কাঁচামাল দিয়ে পণ্যের জোগান দিতে পারলে সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। বর্তমানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুঁজির সংকট কাটানো গেলে সম্ভাবনা দেখা দেবে। যেমন—প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হস্তশিল্প ও ফ্যাশনশিল্পে দেশেই কাঁচামালের পর্যাপ্ততা রয়েছে। তবু পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পণ্য আমদানি হয়। এখন বন্ধ থাকায় এসব শিল্পে করোনা-পরবর্তী সময়ে সম্ভাবনা দেখা দেবে।

সারা দেশে শত শত ছোট ছোট শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব শিল্পকে এগিয়ে আনতে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ক্লাস্টারভিত্তিক পরিকল্পনায় তারা নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে। এসএমই ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা প্রায় ১০ লাখ। কটেজ বা গৃহে পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করে এমন হিসাব করলে স্বল্প ও মাঝারি উদ্যোক্তা দাঁড়াবে প্রায় ৭৮ লাখ। যারা স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা করছে। করোনার কারণে এই স্বল্প ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তারা সংকটে পড়ছেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের ডিএমডি এস এম শাহীন আনোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সম্ভাবনা রয়েছে। ছোট ছোট শিল্পের পণ্য বিদেশি কোনো কাঁচামাল ছাড়া তৈরি সম্ভব। এখন বিদেশি সব পণ্য আমদানি বন্ধ। দেশের মানুষ অভ্যাস পরিবর্তন করে দেশীয় পণ্যে অভ্যস্ত হলে এসএমই খাত ঘুরে দাঁড়াবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এখন পুঁজি সংকটে পড়েছে। অনেকে কাঁচামাল কিনে আটকে গেছে। এ অবস্থায় পুঁজির জোগান দেওয়া সম্ভব হলে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে। এসএমই খাতকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তায় বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। সাময়িক কোনো সুবিধা দিয়ে পরিস্থিতি উতড়ানো সম্ভব; তবে দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণের জন্য তহবিল গঠন প্রয়োজন।’

পিপলস ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোছা. রেজবিন বেগম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ও ঈদের সময় পণ্যের বড় চাহিদা আসবে। তখন দেশীয় শিল্পের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু পুঁজির সংকট থাকায় কে কতটা নিতে পারবে সেটা দেখার বিষয়। বিদেশি পণ্য না আসায় ক্রেতা দেশীয় পণ্যে অভ্যাস করলে পিছিয়ে থাকা খাতগুলো এগিয়ে আসবে। নিজের দেশের পণ্য বিক্রি বাড়বে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে পুঁজি জোগান দিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা