kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা রুখবোই

দেশের পিপিইতে ভবিষ্যতের হাতছানি

এম সায়েম টিপু   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের পিপিইতে ভবিষ্যতের হাতছানি

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অত্যাবশ্যকীয় পোশাক পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) জন্য হাহাকার পড়ে গেছে বিশ্বজুড়েই। সেই পিপিই এখন তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে। দ্রুতই আমাদের দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় ব্যবহৃত পোশাক বা পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরিতে বাংলাদেশের তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও সংকটময় এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে বেশ কিছু পোশাক কারখানা পিপিই তৈরি শুরু করেছে। তবে এসব পিপিই তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক মান স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের সনদ, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানি করা গেলে ভবিষ্যতে এই পিপিই দেশের একটি বড় সম্ভাবনার খাত হতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

গতকাল মঙ্গলবার খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব পিপিই তৈরি হচ্ছে, এসব পিপিই শতভাগ ওয়াটার প্রুপ হলেও তা তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত কাঁচামাল দেশে নেই। আমাদানি করতে হয় চীন থেকে। ফলে সরাসরি করোনাভাইরাস চিকিৎসায় জড়িত কর্মীদের জন্য এ পোশাক কার্যকর না হলেও সহযোগী কর্মীদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

এদিকে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ দেশের এই সংকটময় সময়ে সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট কাটাতে এরই মধ্যে পিপিই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। বিজিএমইএ জানায়, এই বিশেষ পোশাক তৈরিতে দেশের ১০-১২টি কারখানা যুক্ত হয়েছে। এই কারখানাগুলোর মধ্যে কেউ পিপিইর জন্য সরবরাহ করছে বিশেষ কাপড়, আবার কেউ বিনা মূল্যে সেলাই করে দিয়ে এ উদ্যোগে অংশীদার হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর পিপিই বিষয়ক সমন্বয়ক সংগঠনের সভাপতি ড. রুবানা হক এবং ডিএনসিসির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, বিজিএমইএ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতা করতে ২০ হাজার পিপিই তৈরি করছে। আগামী সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তা হস্তান্তর করা যাবে বলে আশা করছি। তবে করোনাভাইরাসের রোগীদের সরাসরি চিকিৎসায় যাঁরা জড়িত তাঁদের জন্য এসব পিপিই নয়। এসব পিপিই ব্যবহার করবেন যাঁরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী হিসেবে কাজ করেন তাঁরা। অর্থাৎ ডাক্তারের সহকারী, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার, ড্রাইভার এঁরা।

তিনি বলেন, ‘শতভাগ মেডিকেডেট পিপিই তৈরি করতে বাংলাদেশের আরো কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ কর্মী, কাঁচামাল, স্বীকৃত মান সনদ দেয় এমন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সনদ নিতে হবে। বর্তমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে পোশাক খাতের ভবিষৎ সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে এই পিপিই।

সম্প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হকের এক চিঠি জবাবে জার্মানির অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী গার্ড মুলার জানান, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিকল্প পণ্য হিসেবে মেডিকেটেড পোশাকের কাজ দেওয়া যায় কি না—এ নিয়ে তিনি তাঁদের ক্রেতাদের ভাবতে অনুরোধ করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের অনেক উদ্যোক্তা ও সংগঠন নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিক পিপিই তৈরি করে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠান মার্কস অ্যান্ড স্পেনসারসহ (এমঅ্যান্ডএস) কয়েকটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট কাটাতে এরই মধ্যে পিপিই বা বিশেষ সুরক্ষা পোশাক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে পে ইট ফরোয়ার্ড, মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, বুয়েট অ্যালামনাই, রোটারি ক্লাব ও অনেস্ট। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে ডাক্তার, নার্সসহ সহযোগী কর্মীদের মধ্যে পিপিই বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে কনফিডেন্স গ্রুপ এবং বেসরকারি বিদুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপসা)।

দেশের এই সংকটময় সময়ে এগিয়ে এসেছে পোশাক খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান উর্মি গ্রুপ। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের এই সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে উর্মি গ্রুপ। বিজিএমইএর উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করছি আমরা।’ তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এক লাখ পিপিই (লেভেল ওয়ান) তৈরি করছি। এগুলো ডাক্তারদের সহযোগীদের ব্যবহারের উপযোগী।’ পিপিইর ভবিষৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘পিপিই তৈরির বর্তমান অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যে সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করছি।’

আল তাহসিন গার্মেন্টস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোহেল আরমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার পিপিই তৈরি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সরবরাহ করছে। স্থানীয়ভাবেই এই পিপিইর কাঁচামাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেড তৈরি করছে এক লাখ পিপিই। তারা এরই মধ্যে ৫০ হাজার পিপিই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে হস্তান্তর করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশের যেকোনো সংকটময় সময়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব আমরা। আমাদের তৈরি পিপিই শতভাগ বাতাস ও পানি প্রতিরোধক। এই পোশাকে কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ডাক্তারদের জন্য এই বিশেষ পোশাক কার্যকর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা