kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

চার বছরের মধ্যে ঢাকায় বাতাসের মান সবচেয়ে ভালো

আরিফুর রহমান   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার বছরের মধ্যে ঢাকায় বাতাসের মান সবচেয়ে ভালো

রাস্তায় যানবাহন নেই। চালকের অযথা হর্নের শব্দ নেই। শহরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়িও বন্ধ। মানুষের যাতায়াত বন্ধ। ঢাকার ভেতর শিল্প-কারখানার চাকা ঘুরছে না। চারদিকে সুনসান নীরবতা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণার পর থেকে রাজধানী বলতে গেলে এক অচেনা এবং নিষ্প্রাণ শহর। তিলোত্তমা শহরে নাগরিক কোলাহল নেই। সকাল থেকে রাত অবধি শোনা যায় পাখির কিচিরমিচির শব্দ। কোকিলের ডাক। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি রাস্তায় যানবাহন না থাকায় সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন ঢাকা ফিরে পাচ্ছে শুদ্ধ বাতাস। ঢাকার চারপাশে অভিযান পরিচালনা করায় অনেক ইটভাটাও বন্ধ। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণা বলছে, গত চার বছরের মার্চের সঙ্গে চলতি মার্চ মাসের ঢাকার বায়ুর মানের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গতকাল ২৭ মার্চ শুক্রবার ঢাকার বায়ুর মান ছিল সবচেয়ে ভালো। ২০১৬ থেকে চলতি মাসের ২৫ মার্চ পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ক্যাপস দেখেছে, এ চার বছরে মার্চ মাসজুড়ে ঢাকায় গড়ে বায়ুর মান সূচক বা (একিউআই) ছিল ২০০-এর মধ্যে। আর গতকাল বিকেল ৫টা নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এয়ারভিজ্যুয়ালের তথ্য বলছে, ঢাকার বায়ুর মান ছিল ১১৪। চার বছর ধরে বায়ুদূষণের দিক থেকে বরাবরই ঢাকা থাকত শীর্ষে। কখনো দুইয়ে। কখনো চারে। তবে এবার ঢাকা নেমে গেছে ৯ নম্বরে। সবার উপরে উঠে এসেছে ক্রোয়েশিয়ার জার্গেভ, ওই শহরে বায়ুর মান সূচক ১৮৫। যা যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তির জন্য অস্বাস্থ্যকর। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সার্বিয়ার বেলগ্রেড, সেখানকার বায়ুর মান সূচক ছিল ১৮২। ৩ নম্বর অবস্থানে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর।

এয়ারভিজ্যুয়ালের তথ্য মতে, সাধারণত শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত সূচক থাকলে বলা হয় বাতাসের মান ভালো। ৫১ থেকে ১০০ থাকলে বলা হয় মডারেট। ১০১ থেকে ১৫০ থাকলে অসুস্থ মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে বায়ুর মান সূচক থাকলে বলা হয় সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর। আর ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত সূচক থাকলে বায়ুর মান খুবই অস্বাস্থ্যকর বলা হয়।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) গবেষণা বলছে, চলতি মাসের ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকার বাতাসের মান ছিল ২০০ এর মধ্যে। আগের চার বছরেও বায়ুর মান ছিল একই। এমনকি বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান ছিল শীর্ষ তিনে। চার বছর ধরে ঢাকার অবস্থান বলতে গেলে একই জায়গায় অবস্থান করছিল। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে বৃহস্পতিবার থেকে। গতকাল ঢাকার বাতাসের মান ছিল ১১৪। জানতে চাইলে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ক্যাপসের পরিচালক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি, বায়ুদূষণের পেছনে ঢাকার চারপাশের ইটভাটার চেয়ে বেশি ভয়ংকর অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। ঢাকা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি জায়গায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছিল। তা ছাড়া ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে আরেকটি বড় কারণ যানবাহন। যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বায়ুদূষণ হয় মারাত্মক। কিন্তু গত দুই দিন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ থাকা এবং যানবাহন চলাচল না করায় আমরা ঢাকার বায়ুর মান গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দেখছি। এভাবে চলতে থাকলে ঢাকার বায়ুর মান আরো উন্নতি হবে।’ ঢাকায় বৃষ্টি হলে বায়ুর মান ১০০-এর নিচে চলে আসবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে পুরো ভারত লকডাউন থাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা কমে এসেছে পশ্চিমবঙ্গেও। শুধু কলকাতা নয়, দিল্লি থেকে চেন্নাই, মুম্বাই, সবখানেই বায়ুর মান বিপত্সীমার নিচে নেমে এসেছে। মানুষ প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআইয়ের তথ্য বলছে, দিল্লির বায়ুর মান গতকাল ৯২-তে নেমে এসেছে। কলকাতায় আরো কম ৮৬। হাওড়ায় ৭১, মুম্বাইয়ে ৬৯ ও চেন্নাইয়ে ৫৬। পরিবেশবিদরা বলছেন, লকডাউনে অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনলেও এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বায়ুদূষণ কমে গেলে ফুসফুসের নানা জটিল রোগ থেকে বাঁচা যায়। অ্যাজমা থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা