kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

পুলিশ পরিদর্শকের কক্ষে হত্যা মামলার আসামির মৃতদেহ

আমতলী থানা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুলিশ পরিদর্শকের কক্ষে হত্যা মামলার আসামির মৃতদেহ

বরগুনার আমতলী থানায় পুলিশ পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামির গলায় ফাঁস লাগানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই পরিদর্শক (তদন্ত) এবং ডিউটি অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি একই ইউনিয়নের পশ্চিম গোজখালী গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান শানু হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির নেতৃত্বে এক দল পুলিশ। ওই রাতে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রির কক্ষেই তাঁকে আটকে রাখা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য কনস্টেবল মনির শানুর মরদেহ মনোরঞ্জন মিস্ত্রির কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে থানার ওসি আবুল বাশারকে জানান। ওসি তাত্ক্ষণিক বিষয়টি জানান বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারকে। পরে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন (পিপিএম) আমতলী থানায় এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরপর পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) তোফায়েল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মহরম আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী সার্কেল) রবিউল ইসলাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন, বরগুনার এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। পরে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশ শানু হাওলাদারকে বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর তিন দিন ধরে পুলিশ তাঁকে থানায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রি শানুকে হত্যা মামলার আসামি না করতে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। গত মঙ্গলবার সকালে শানুর ছেলে সাকিব থানায় গিয়ে তার বাবার ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রিকে ১০ হাজার টাকা দেয়। গত বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা থানায় শানুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের দেখা করতে দেয়নি। এ সময় আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন বলে জানান নিহতের স্ত্রী, বোন ও ছেলে।

শানুর স্ত্রী ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘আমার নির্দোষ স্বামীকে পরিদর্শক মনোরঞ্জন মিস্ত্রি টাকার জন্য থানায় নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। পরে তার রুমের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

শানুর ছেলে সাকিব বলে, ‘আমার বাবাকে যেন শারীরিক নির্যাতন না করে সে জন্য পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রিকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। তার পরও আমার বাবাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে ওরা।’

শাহিনুর রহমান শানু হাওলাদারের মরদেহ সুরতহালকারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ‘নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।’

এ বিষয়ে জানতে পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রিকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার মোবাইলে বলেন, ‘শানুকে গত সোমবার রাতে ইব্রাহীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যায় সে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছে। সে আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা।’

শানু যদি আত্মহত্যাই করেন, তাহলে আত্মহত্যায় ব্যবহৃত রশি কোথায় পেয়েছেন—এমন প্রশ্ন করা হলে ওসি আবুল বাশার কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন (পিপিএম) বলেন, ‘আমি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাত্ক্ষণিক আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং ডিউটি অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়ে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা