kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

দেশে প্রায় দুই কোটি টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে

বাহরাম খান   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে প্রায় দুই কোটি টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে

করোনা পরিস্থিতিতে খাদ্যশস্য নিয়ে আপাতত চিন্তার কারণ নেই। দেশে এক বছরের প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য মজুদ আছে। দেশে প্রতি মাসে খাদ্যশস্যের চাহিদা ১৯ থেকে ২১ লাখ টন। বর্তমানে দেশে মোট খাদ্য মজুদ আছে প্রায় দুই কোটি টনের মতো। যারা ঘরে খাদ্যের মজুদ গড়ার চিন্তা করছে তাদের তা না করতে আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গত মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৭ লাখ টন খাদ্যশস্য আছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, সরকারের কাছে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য থাকে, বেসরকারিভাবে থাকে (ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক) আরো দশ গুণ। এই হিসাবে দেশে বর্তমানে মজুদ আছে প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ টন খাদ্যশস্য।

খাদ্যসচিব নাজমানারা খানুম গত বুধবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে প্রতি মাসে ২০-২১ লাখ টনের মতো খাদ্য চাহিদা আছে।

এই হিসাবে এক বছরের মতো খাদ্যশস্য মজুদ আছে। তিনি জানান, কিছুদিন আগে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। এপ্রিলের মধ্যে বোরো ফলন ঘরে উঠবে। এর পরই হাতে আসবে কয়েক লাখ টন গম। তাই খাদ্য পরিস্থিতিতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ খুব ভালো অবস্থানে আছে।

খাদ্যসচিব বলেন, খাদ্য নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কাউকেই স্বাভাবিক প্রয়োজনের বাড়তি খাদ্য মজুদ করার প্রয়োজন নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে সে জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খাদ্যশস্য ক্রয় ও মজুদ নিয়ন্ত্রণ করতে সব জেলার ডিসিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুনিরা সুলতানা স্বাক্ষরিত ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই বা ঘাটতির সম্ভাবনাও নেই। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা যেন ভোক্তা সাধারণের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী বিক্রি না করে সে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভীত হয়ে জনগণ প্রয়োজনের তুলনায় অধিক খাদ্যপণ্য ক্রয় করে বাড়িতে মজুদ করছে—এমন খবর বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। তাই খাদ্যশস্য বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল ফোন নম্বর রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে বাজার মনিটরিং কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আপাতত ওএমএস এবং ঢাকার বাইরে ১০ টাকা কেজি চালের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ঢাকায় ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

গত বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ থাকার কথা বলেছে। তার পরও কৃচ্ছ্র সাধন করে অভাবী মানুষকে খাদ্য পাওয়ার সুযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী চলেন, সরকারি গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। বেসরকারি মিল মালিকদের কাছে এবং কৃষকদের ঘরেও প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) সারোয়ার মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে খাদ্যশস্য মজুদ পরিস্থিতিতে আমরা ভালো অবস্থায় আছি। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সব নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ যেকোনো উদ্যোগও নেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা