kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৬ জুলাই ২০২০। ২৪ জিলকদ ১৪৪১

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক

বিকল্প সড়ক ছাড়াই সংস্কার কাজ, যানজটে জনদুর্ভোগ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, দেবীদ্বার (কুমিল্লা)   

২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিকল্প সড়ক ছাড়াই সংস্কার কাজ, যানজটে জনদুর্ভোগ

বিকল্প ব্যবস্থা না করে সড়কের অর্ধেক অংশেই চলছে সংস্কার। বাকি অংশে প্রচণ্ড চাপে দিন-রাত যানজট। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললেও যেন দেখার কেউ নেই। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার এলাকা থেকে গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিকল্প সড়ক তৈরি করা হয়নি। বিদ্যমান সড়কে বড় বাধা হয়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিও অপসারণ হয়নি। দখলমুক্ত হয়নি সড়কের দুই পাশের জায়গাও। এ অবস্থায়ই ব্যস্ততম সড়কে চলছে সংস্কারকাজ। আবার কাজের গতিও খুবই ধীর। এ অবস্থায় কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দেবীদ্বার সদরের দেড় কিলোমিটার এলাকা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

জানা গেছে, কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অংশ পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয় গত বছরের জুন মাসে। ২৩ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয় হিসেবে কাজটি পায় ‘হাসান টেকনো বিল্ডার্স’ ও ‘মেসার্স সোহাগ এন্টারপ্রাইজ’। কাজটি সম্পন্ন করতে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাস সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের গতি এতটাই ধীর যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে এরই মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

দেবীদ্বার অংশের নিউ মার্কেট বাসস্ট্যান্ড ও জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সামনে দুটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীরের কারণে সড়কটির এই অংশে গাড়ি চলাচলে আগে থেকেই সমস্যা হচ্ছিল। সড়কটিতে সংস্কার শুরু করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোনো বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা করেনি। আবার সড়কে চলাচলে বাধা হয়ে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিও সরানো হয়নি। এর মাঝেই সড়কের অর্ধেকটা কেটে সংস্কারকাজ শুরু করায় প্রায় তিন মাস ধরেই সড়কের এই অংশে যানবাহন চলছে থেমে থেমে। দিনে দিনে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে উঠলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজে সেভাবে গতি আসেনি।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীদের বক্তব্য জানতে তাঁদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মুরাদনগর উপজেলার গকুলনগর থেকে দেবীদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্টেশন পর্যন্ত কয়েক শ গাড়ি যানজটে আটকা পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানায়, দেবীদ্বারের চরবাকর থেকে মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ এবং বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজার ও দেবপুর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের দুই পাশে নিত্যদিন ১০-১২ ঘণ্টা স্থায়ী যানজট লেগে থাকছে।

স্থানীয়রা বলে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ময়নামতি থেকে মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার ব্রিজ পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে বিকল্প সড়ক তৈরি করলে এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হতো না। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং সওজের জায়গায় গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা, দৈনিক বাজার, অটোরিকশা স্ট্যান্ড না সরিয়ে সড়কের এক পাশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে সংস্কারকাজ করার কারণে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শুক্রবারের মধ্যে সওজের জায়গা থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা, বাজার, স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ন্যাশনাল সার্ভে অ্যান্ড ডিজাইন কনসালট্যান্টের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব মোরশেদ ভূঁইয়া বলেন, বিকল্প সড়ক তৈরি, সড়কের দুই পাশের জায়গা উদ্ধার এবং সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো না সরিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা ঠিক হয়নি।

জনদুর্ভোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। তার পরও জনদুর্ভোগের বিষয় বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা