kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১ মার্চ

সভাপতিতে একা লিটন, সম্পাদকে এক ডজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সভাপতিতে একা লিটন, সম্পাদকে এক ডজন

পাঁচ বছরের বেশি সময় পর আগামী ১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনে প্রায় ৩০০ কাউন্সিলর অংশ নেবেন। সে অনুযায়ী চলছে নানা প্রস্তুতি। এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনই একক প্রার্থী হচ্ছেন এমনটি ভাবা হচ্ছে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ডজনখানেক নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই নেতারা এরই মধ্যে সম্মেলনের কাউন্সিলরদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর। সম্মেলন হওয়ার এক বছর পর গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জায়গা করে নেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আলোচিত ব্যক্তি আজিজুল আলম বেন্টু। তবে এবার সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিতে তিনি বাদ পড়ছেন এমনটি প্রায় পরিষ্কার। কারণ সম্প্রতি তাঁর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাঁকে জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ২০ নভেম্বর রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ একনেকে পাস হওয়ায় মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ রকম প্রেক্ষাপটে মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন বেন্টুকে এবার কোনো পদে রাখা হবে না।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এবার সভাপতি পদে এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন একক প্রার্থী হচ্ছেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ এ পদে প্রথম দিকে তিনজনের নাম শোনা গেলেও এরই মধ্যে রাজশাহী-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ হারানো ওমর ফারুক চৌধুরী নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বজলার রহমানের নাম শোনা গেলেও এখন তাঁর ‘সাড়াশব্দ’ নেই। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত এক ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবারের সম্মেলনে সভাপতি-সম্পাদক পদে তেমন কোনো রদবদল হচ্ছে না, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু আজিজুল আলম বেন্টুর পদটি খালি হতে পারে এ আশায় ওই পদে আসতেই সাধারণ সম্পাদক পদে একের পর এক নতুন প্রার্থীর নাম বের হয়ে আসছে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘সভাপতি পদে লিটনের ওপরই আমাদের আস্থা বেশি। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁদের অনেকেই হয়তো নতুন কোনো পদে আসতে চান, এ কারণে ওই পদে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকেই এই পদে রাখবেন বলে মনে হচ্ছে।

নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরেক নেতা বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে যেসব নতুন নাম দেখছি, তাদের কারো কারোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয়ই নেই। এখন নতুন করে এসে পরিচয় হচ্ছেন, প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের দিয়ে কি দল চলবে?

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আরেক নেতা বলেন, একজন সাংগঠনিক সম্পাদককে ঘিরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগে কিছুটা বিভেদ তৈরি হয়েছে। তাঁকে বাদ দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। অতীতের চেয়ে রাজশাহীতে দল এখন অনেক সুসংগঠিত।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, নওশের আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মোস্তাক হোসেন ও নাইমুল হুদা রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজাদ, অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার, সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র সরিফুল ইসলাম বাবু, সদস্য আহসানুল হক পিন্টু, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান রুবেল।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা