kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

বিমানবন্দরে দুই নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

সাতটি পাসপোর্ট ও জাল নোট উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিমানবন্দরে দুই নারীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডগামী দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে সাতটি পাসপোর্ট, দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও জাল নোট। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ, মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা।

র‌্যাব জানায়, অর্থপাচার রোধে চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১ ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রুপের তৎপরতার তথ্য পায়। এসব গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ দেশের বাইরে পাচার করে আসছে। আর কিছু ব্যক্তি বিপুল অর্থসহ দেশত্যাগের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছে।

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে পাওয়া এসব তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাব-১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের থাইল্যান্ডে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল গতকাল রাত সাড়ে ৯টায়। অথচ সকাল সাড়ে ৯টার দিকেই তাঁরা বিমানবন্দরে চলে আসেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলার ও সাতটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রের দাবি, চক্রের প্রধান পাপিয়ার অন্যতম সহযোগীদের একজন তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান। গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুজন তাঁদের ব্যক্তিগত সহকারী। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারীসংক্রান্ত অনৈতিক কারবারে জড়িত। নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির সঙ্গেও তাঁরা সংশ্লিষ্ট।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানান, তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেট-সংলগ্ন এলাকায় অংশীদারত্বে তাঁর ‘কার এক্সচেঞ্জ’ নামে গাড়ির একটি শোরুম এবং নরসিংদীতে ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামে একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গাড়ি ব্যবসার আড়ালে পাপিয়া অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি সমাজসেবার নামে নরসিংদীতে অসহায় নারীদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করেন। নরসিংদীতে চাঁদাবাজির জন্য তাঁর একটি ক্যাডার বাহিনীও রয়েছে। এসবের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি নরসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা