kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

সবিশেষ

ইঁদুর তাড়াতে বিড়াল বাহিনী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইঁদুর তাড়াতে বিড়াল বাহিনী

ছবিঃ ইন্টারনেট

শহরে ইঁদুরের উপদ্রব হলে বিড়াল বাহিনী কাজে লাগালে কেমন হয়? হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালাকে না পেয়ে লিসবন শহরের বেওয়ারিশ বিড়াল কাজে লাগিয়ে এমন প্রচেষ্টাই শুরু হয়েছে। শহরবাসীর মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

লিসবন শহরের বিড়াল প্রায় নিঃশব্দে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। এবার শহরের প্রায় ছয় কোটি ইঁদুরকে শায়েস্তা করতে বিড়াল বাহিনীকে কাজে লাগানো হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে সবার আগে বিড়ালগুলোকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। আনা ডুয়ার্তে ও তাঁর পথঘাটের প্রাণী কল্যাণ সংগঠনের সহকর্মীরা বেওয়ারিশ বিড়াল ধরে সেগুলোর পুনর্বাসন করেন। স্ট্রিট এনিম্যালস অ্যাসোসিয়েশনের আনা ডুয়ার্তে মনে করিয়ে দেন, ‘বিড়াল শিকারি প্রাণী। বিড়ালের গন্ধ পেলে ইঁদুর পালিয়ে যায়। আমরা বিড়ালের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করে ইঁদুর দূরে রাখছি।’

সেই লক্ষ্যে লিসবনে ‘বিড়াল প্যাট্রলিং বাহিনী’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জংলি বিড়াল আকর্ষণ করতে হলে ধৈর্যের প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা বিফল হওয়ায় প্রাণী সংরক্ষণকারীরা বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছেন। পারলে পুরো কলোনি বন্দি করতে চান তাঁরা। আনা ডুয়ার্তে বলেন, ‘বিড়াল সহজেই বন্ধু খুঁজে নেয়। এই প্রাণী একই সঙ্গে ঘুমায়, খেলা করে। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে না করে একসঙ্গে সব বিড়ালের পুনর্বাসন করা অনেক সহজ।’

লিসবন শহরে বিড়ালের প্রায় হাজারখানেক কলোনি বা বসতি আছে। বিষয়টি নিয়ে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে বিতর্ক আছে। কারো মতে, বিড়াল উপকারে আসে।

মারিসা কারেশ্মা দোস রেইস ঠিক সেটাই প্রমাণ করতে চান। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের প্রাণীসংক্রান্ত কর্মকর্তা ও ‘ক্যাট প্যাট্রল’ প্রকল্পের সহ-উদ্যোক্তা। তাঁর মতে, ‘বিড়াল ও মানুষের জন্য তো বটেই, এমনকি ইঁদুরের জন্যও এটা ভালো। কারণ এটা ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রাকৃতিক পদ্ধতি। বিড়ালের ভয়ে ইঁদুর আর দেখা যায় না।’

একটি বিড়াল ধরা পড়েছে। সেটির চোখে-মুখে আতঙ্ক। বিড়ালটি এখনো জানে না যে ভালোর জন্যই সেটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আনা ডুয়ার্তে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোনো বসতি সম্পর্কে ক্ষোভ থাকলে বিড়ালের বিপদের আশঙ্কা আছে। সেগুলোকে বিষ খাওয়ানো বা নিপীড়ন করা হতে পারে। কোনো পুরনো ভবন ভেঙে নতুন করে তৈরির সময় তাদের অন্য কোথাও চলে যেতে হয়।’

লিসবন শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি স্কুল এমনই একঝাঁক বিড়ালের নতুন কলোনি হয়ে উঠেছে। সারাক্ষণ বিড়াল ঘোরাফেরা করছে। সহকারী প্রিন্সিপাল আঙ্গেলা লোপেস মনে করেন, এ ক্ষেত্রে সঠিক শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, প্রাণীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শেখাও জরুরি। আমরা ভালো নাগরিক সম্পর্কে অনেক কথা বলি। প্রাণী সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির এটি ভালো উপায়।’

আনা দুয়ার্তেও এ বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এটি সূচনামাত্র। সমস্যার সমাধান করতে আমাদের আরো মানবিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধানসূত্র চাই।’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা