kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

লেখকের মেলা

তরুণদের হাত ধরেই বইমেলা সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে

ফরিদুর রেজা সাগর

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরুণদের হাত ধরেই বইমেলা সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে

ছোটবেলায় আমার মা কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের হাত ধরে বহুদিন বহুবার বইমেলায় গিয়েছি। একুশের বইমেলায় সে সময় পরিচিত অনেক খ্যাতিমান লেখক-সাহিত্যিকের সঙ্গে আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো, ভাববিনিময় হতো। তাঁদের অনেকেই আজ বেঁচে নেই। আমাদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা সে সময়ে দেখেছি একেবারে নিঃস্বার্থ। বইমেলা ঘিরে তাঁদের শত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সময় দিতেন।

একুশে বইমেলা আমার জন্য অনেক স্মৃতিজাগানিয়া। তরুণ বয়সে বইমেলাকে কেন্দ্র করে আমি আমার অনেক কর্মকাণ্ডই নির্ধারণ করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে বইমেলায় যাওয়া, লিটলম্যাগ নিয়ে ব্যস্ততা—এ রকম অনেক কিছুই ছিল আমার কাজের অংশ। যখনকার কথা বলছি সে সময় আমাদের এই একুশে গ্রন্থমেলাটি ছিল অনেকটা সীমিত পরিসরে। বাংলা একাডেমি চত্বরেই ছিল সীমাবদ্ধ। সে সময় প্রকাশকের সংখ্যা ছিল কম, বইয়ের প্রকাশনাও ছিল সীমিত। আমরা বন্ধু-বান্ধব কয়েকজন মিলে সে সময় লিটল ম্যাগাজিন বের করতাম। ইত্তেফাক, পূর্বদেশ, কিশোর বাংলায় লেখালেখির সুবাদে আমাদের একটা পরিচিত গ্রুপ ছিল।

আমার দুই মেয়ে মেঘনা ও মোহনা যখন ছোট, তখন তাদেরও হাত ধরে বইমেলায় নিয়ে গিয়েছি। তাদের পছন্দের বই কিনে দিয়েছি। তখন তাদের আনন্দ দেখে আমিও আনন্দিত হতাম। সে সময় তাদের পছন্দের প্রিয় লেখকদের বই দুই হাত ভরে বাড়ি নিয়ে আসত।   

এখনকার বইমেলায় যেমন অনেক তরুণ লেখক-প্রকাশকের ভিড় আমরা লক্ষ করি, তখন এতটা ছিল না। ডিজিটাল যুগে এসে বইমেলার পরিসর বেড়েছে ও আধুনিকায়ন হয়েছে এবং মেলা চত্বর হয়েছে অনেক পরিপাটি।

কিন্তু এ সময়কার বইমেলায় এত কিছু থাকার পরও আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পুরনো প্রকাশিত সংগৃহীত বইয়ের একটি প্যাভিলিয়ন থাকা দরকার। যেখানে পাওয়া যাবে সত্তর, আশি, নব্বই কিংবা এক শ বছরের পুরনো বই। এ বইগুলো সংগ্রহের ক্ষেত্রেও থাকবে বিশেষ ধরনের সুযোগ-সুবিধা।

২০২০ সালে এসে বর্তমান বইমেলাকে দেখে আমি বিস্মিত হই। এখন বইমেলায় দেখা যায় কত কত তরুণ প্রকাশক, লেখক, পাঠক। তাঁদের পদচারণে বইমেলা মুখরিত হতে দেখে আমি আনন্দিত হই।

আমি দিব্যি দেখতে পাচ্ছি, অনেক তরুণ প্রকাশক, লেখক ও পাঠকের আগমনে আগামীর বইমেলাগুলোও উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। তরুণদের হাত ধরেই আমাদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য দিন দিন আরো সমৃদ্ধ হবে। বাংলা ভাষার এই সমৃদ্ধি, এই এগিয়ে যাওয়া মানেই হচ্ছে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া।

মন্তব্য