kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

প্রাণের মেলা

ভ্রমণ সাহিত্যের দুর্দিন

নওশাদ জামিল   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভ্রমণ সাহিত্যের দুর্দিন

অজানা দেশ-বিদেশকে জানা, অদেখাকে দেখার ইচ্ছা মানুষের স্বভাবগত। এ ইচ্ছা পূরণের একটি মাধ্যম বই। নির্দিষ্ট করে বললে ভ্রমণসাহিত্যের বই। এ সাহিত্য শুধু কোনো দেশ বা স্থানের বিবরণ নয়, দেশ ও জাতিকে ভিন্নভাবে দেখার প্রয়াস। ঘোরাঘুরি যাদের পছন্দ, তাদের কাছে ভ্রমণসাহিত্যের বইও খুব পছন্দের। বিচিত্র ভাষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ইতিহাস, সমাজ, অর্থনীতি এক মলাটে আবদ্ধ হয় লেখকের তীক্ষ পর্যবেক্ষণে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ও সামর্থ্য বাড়ার ফলে মানুষের দেশ-বিদেশ ভ্রমণের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভ্রমণসাহিত্যের পাঠকের সংখ্যাও। কিন্তু প্রকাশের দিক দিয়ে পিছিয়ে এ ধারার সাহিত্য। হাতে গোনা কয়েকজন লেখক এ মাধ্যমে কাজ করেন। ফলে তাঁদের বই-ই পাঠকের একমাত্র ভরসা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এবারও গ্রন্থমেলায় ভ্রমণসাহিত্যের দুর্দিনই দেখা গেল।

বাংলা একাডেমির তথ্যানুসারে, গতকাল পর্যন্ত ভ্রমণের বই প্রকাশিত হয়েছে ৪৮টি। এর মধ্যে নতুন লেখকদের বই যেমন রয়েছে, রয়েছে পুরনো ভ্রমণসাহিত্যিকদের বইও। কিছু মানসম্পন্ন বই পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ শখের ভ্রমণকাহিনি।

শখের ভ্রমণকাহিনিকে ভ্রমণসাহিত্য বলতে নারাজ খ্যাতিমান ভ্রমণসাহিত্যিক শাকুর মজিদ। কথা প্রসঙ্গে গতকাল তিনি বলেন, ‘ভ্রমণ করা যত সহজ, ভ্রমণ সাহিত্যে কাজ করা তত কঠিন। ভ্রমণসাহিত্যের নামে যেসব বই প্রকাশ পায়, বেশির ভাগ বই-ই মানহীন। মাত্রাতিরিক্ত ছবি, আত্মপ্রচার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিবরণ ভ্রমণসাহিত্য নয়। ভ্রমণসাহিত্য সৃজনশীল ও মননশীল সাহিত্যের এক অনুপম মেলবন্ধন।’

ভ্রমণসাহিত্যের জন্য খ্যাতিমান লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, ভ্রমণসাহিত্য শুধু তো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নান্দনিক বয়ান নয়। ভ্রমণসাহিত্য লেখার জন্য একটি জাতি ও দেশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, রীতিমতো গবেষণা করতে হয়। ইতিহাস, ঐতিহ্য, পুরাণ, সমাজ, রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হয়। এ জন্য অনেকে ভ্রমণসাহিত্য লিখতে ইচ্ছুক নন।

প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভ্রমণের বই প্রকাশ করতে খরচ বেশি। রঙিন কাগজ, ছবি ব্যবহার ইত্যাদি কারণে খরচ বেড়ে যায়। বইয়ের দামও বেড়ে যায়। এ জন্য অনেকে ভ্রমণসাহিত্যের বই প্রকাশে ইচ্ছুক নন। কিন্তু এ ধারার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। মূল ধারার লেখকরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে ভ্রমণসাহিত্যের সুদিন ফিরবেই।

গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত চারটি ভ্রমণসাহিত্যের বইয়ের তথ্য ও পরিচিতি পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

কলকাতা রানাঘাট : বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ভ্রমণ লেখকদের একজন হাসনাত আবদুল হাই। তাঁর এ বইটিতে ভ্রমণকাহিনির প্রচলিত ফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লেখকের বিপুল প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ ও মানুষকে দেখার অন্য রকম দৃষ্টিভঙ্গি। পাশাপাশি ভ্রমণের নিখুঁত বর্ণনা ও মানুষের অন্তরঙ্গ চরিত্র উঠে এসেছে সাবলীলভাবে। বইটির প্রকাশক অন্যপ্রকাশ। দাম ৭০০ টাকা।

বাঙালির জাপান আবিষ্কার : বইটির লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ। এ বই সনাতন ধারার পর্যটকের ডায়েরি নয়। লেখক তাঁর অনুসন্ধানী চোখ ও মনন দিয়ে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অন্য এক জাপানকে, যা আমাদের অচেনা। বইটির প্রকাশক প্রথমা। দাম ২০০ টাকা।

মেকং পাড়ের মন্দির-মুগ্ধ লোকালয়ে : ভ্রমণসাহিত্যের এক ভিন্নমাত্রিক স্রষ্টা মঈনুস সুলতান। তাঁর এ বইটিতে গভীর অভিনিবেশ সহকারে উঠে এসেছে লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের জীবন, সমাজ, প্রকৃতি ও রাজনীতির চালচিত্র। বইটির প্রকাশক উৎস প্রকাশন। দাম ৪০০ টাকা।

জানা অজানা মালয়েশিয়া : ভ্রমণবিষয়ক এ বইয়ের লেখক খান মাহবুব। বইটিতে লেখক তুলে ধরেছেন এশিয়ার সমৃদ্ধ এ দেশটির উঠে আসার গল্প, তাদের জীবন ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও উন্নয়নের চালচিত্র। প্রকাশ করেছে অনন্যা। দাম ২৫০ টাকা।

মূল মঞ্চের আয়োজন : গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় জালাল ফিরোজ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুজতবা আহমেদ মুরশেদ। আলোচনায় অংশ নেন ডালেম চন্দ্র বর্মণ, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং সাব্বীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা