kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

বিটিআরসির জরিপ

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ ক্ষতিকর মাত্রার নয়

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ ক্ষতিকর মাত্রার নয়

দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ফোন টাওয়ারের বিকিরণ (রেডিয়েশন) মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার নয়। এসব টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসির) বেঁধে দেওয়া মানদণ্ডের অনেক নিচে রয়েছে। বিটিআরসির এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টাওয়ার রেডিয়েশনের মানদণ্ড ও সামপ্রতিক জরিপ’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এমনটা দাবি করা হয়। বিটিআরসির উদ্যোগে এই আলোচনার আয়োজন করে মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন এমটব। এমটব মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এস এম ফরহাদের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও মোবাইল শিল্প খাতের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শহিদুল আলম, বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপপরিচালক ড. শামসুজ্জোহা এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের (বাংলাদেশ) মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক এস এম নাজমুল হাসান।

আলোচনায় বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার আমিনুল হাসান বলেন, ‘আমরা দেশের অনেক স্থানে মোবাইল টাওয়ার রেডিয়েশন জরিপ সম্পন্ন করেছি এবং তা অব্যাহত থাকবে। টাওয়ারের রেডিয়েশনের ফল অত্যন্ত সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নততর সেবা পেতে চাইলে আরো বেশি মোবাইল সাইট স্থাপনের বিকল্প নেই। টাওয়ার রেডিয়েশন নিয়ে নানা রকম বিভ্রান্তি আছে, যা ভিত্তিহীন। আমরা সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বা ভবন মালিকদের নিশ্চিত করছি, আপনারা ভয় পাবেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘উচ্চ আদালত আমাদের এসংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বলেছেন। আমরা দ্রুতই তা আদালতে পেশ করব।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপপরিচালক ড. শামসুজ্জোহা। তিনি বলেন, ‘রেডিয়েশন দুই ধরনের—আয়োনাইজিং ও নন-আয়োনাইজিং। এর মধ্যে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যেমন পারমাণবিক বর্জ্য, সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি, গামা রশ্মি কিংবা এক্স-রে। এরা শরীরের মধ্যে ডিএনএ পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। অপরদিকে মোবাইল রেডিয়েশন নন-আয়োনাইজিং। এর শক্তি খুব কম। ফলে এর কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। মোবাইল টাওয়ারে ব্যবহূত যন্ত্রপাতির ইএমএফ রেডিয়েশন বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্দিষ্ট মানদণ্ড আছে। আমরা জরিপে পেয়েছি যে দেশের মোবাইল টাওয়ারগুলোর রেডিয়েশন নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে রয়েছে। আমরা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সুন্দরবন, ফেনী, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জরিপ চালিয়েছি এবং এ পর্যন্ত কোথাও নির্ধারিত সীমার বেশি রেডিয়েশন পাইনি।’

ড. শামসুজ্জোহা জানান, জরিপ করতে গিয়ে কয়েকটি টাওয়ারের ওপরে তাঁরা পাখির বাসা দেখেছেন। পাখিরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আছে এবং বংশবৃদ্ধি করে চলেছে। অনেক ভবনের ছাদে বাগান করা হয়েছে এবং তাতে খুব ভালো সবজির ফলন হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, ‘টাওয়ার নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে তা দূর হওয়া দরকার। কারণ আমাদের প্রযুক্তি নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) বলেন, ‘সামনে যখন ফাইভজি আসবে তখন আমাদের অনেক বেশি সাইটের প্রয়োজন হবে। তাই শুধু শুধু আতঙ্কিত হয়ে প্রযুক্তিকে রুদ্ধ করার কোনো যুক্তি নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা