kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং

তালা ঝুলিয়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালা ঝুলিয়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের দায়ে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭তম সিন্ডিকেট সভায় এক ছাত্রকে তিন বছর ও দুই ছাত্রকে দুই বছর এবং দুই ছাত্রীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে অভিযুক্তদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এর মধ্যেই অপরাধী পাঁচ শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে ক্ষমা চেয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেন তাঁরা।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথমবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিং করার অভিযোগে স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকির হোসেনকে তিন বছর ও তানভীরুল ইসলামকে দুই বছর এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসানকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে র‌্যাগিং করার অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তোয়াবা নুসরাত মীম এবং শায়রা তাসনিম আনিকাকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে অনিক ভৌমিক নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘ভিকটিম ও ভিকটিমের পরিবার অভিযুক্তদের সঙ্গে আপসে এসেছে এবং নিজেরা মীমাংসা করেছে, সেখানে আর কিছু বলার নেই। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবা এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা।’

র‌্যাগিংকারীদের পরিচিত শিক্ষার্থীরা ‘র‌্যাগিংয়ের শাস্তি সম্পর্কে আগে থেকে সতর্ক করা হয়নি’ এবং শাস্তি বেশি হয়ে গেছে উল্লেখ করে এই আন্দোলন শুরু করে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী বলেন, ‘ওরা আপস করার আগেই আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। আর ওদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করেছি। আমাদের তদন্তে কোনো গ্যাপ নেই। ইমরান অসুস্থ হওয়ার আগের একটি রেকর্ড পেয়েছি। সেই সূত্র ধরে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা তদন্ত রিপোর্ট তৈরি করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা