kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

মানবতাবিরোধী অপরাধ

সাজাপ্রাপ্ত সুবহানের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাজাপ্রাপ্ত সুবহানের মৃত্যু

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান (৮০) মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালে দায়িত্বরত প্রধান সহকারী কারারক্ষী শেখ কামাল হোসেন জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুবহান বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এই প্রভাবশালী নেতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পর থেকে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। পরে একই বছরের ১৮ মার্চ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন সুবহানের আইনজীবীরা। মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন।

জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান পাবনা-৫ আসন থেকে পাঁচবার এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে এমপি হন। পাকিস্তান আমলে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য সুবহান পাবনা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মাওলানার দায়িত্বেও ছিলেন।

মসজিদ থেকে বের করে তলোয়ার দিয়ে গলা কেটেছিলেন : ‘এ কী নৃশংসতা! মসজিদ থেকে বের করে এনে তলোয়ার দিয়ে গলা কেটে মানুষজনকে হত্যা করেন সুবহান ও তাঁর সহযোগীরা! এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’ আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় দিতে গিয়ে কথাগুলো বলেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণিত তিনটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল ট্রাইব্যুনালের ১৬তম এবং জামায়াতে ইসলামীর নবম নেতার বিরুদ্ধে এ রায় দেন।

আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৯টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে তিনটিতে সুবহানের মৃত্যুদণ্ড, দুটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং একটিতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছিলেন, আব্দুস সুবহান সামান্য অপরাধী নন। তিনি গুরুতর অপরাধী। তিনি সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ১৯৭১ সালে অপরাধে সহযোগিতা করেন বলে প্রমাণিত হয়েছে। আব্দুস সুবহান পাবনা জেলা জামায়াতের তৎকালীন আমির ছিলেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় তিনি গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে অংশ নেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে বলা হয়, আব্দুস সুবহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব কাজ করেছেন, তাতে তাঁকে একজন ‘কুখ্যাত ব্যক্তি’ হিসেবে অভিহিত করা যায়।

যেসব অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড : ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিলের পর এক সপ্তাহের মধ্যে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে অপহরণ করে মোয়াজ্জেম হোসেন, মোতালেব খান ও তাঁর ছেলে নাজমুল হক খানসহ ২০ জনকে হত্যার অভিযোগ (নম্বর ১) প্রমাণিত হওয়ায় আব্দুস সুবহানকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। একাত্তরে সহযোগী জামায়াত নেতা ও বিহারিদের সঙ্গে নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে জামে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া স্বাধীনতাকামী মানুষকে অপহরণ করে হত্যা করেন সুবহান।

একাত্তরের ২ মে সুবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামে অসংখ্য বাড়িঘর লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে হত্যা করে (অভিযোগ নম্বর ৪)।

একাত্তরের ১২ মে সুবহানের নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বিরাট বহর পাবনার সুজানগরের কয়েকটি গ্রামে হামলা চালিয়ে তিন-চার শ মানুষকে হত্যা এবং বিভিন্ন বাড়িঘরে লুটপাট চালায় ও পুড়িয়ে দেয় (অভিযোগ নম্বর ৬)।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা