kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আয়ুর্বেদিক ওষুধে আস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর

বিমসটেক ট্র্যাডিশনাল হেলথকেয়ার এক্সপো সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আয়ুর্বেদিক ওষুধে আস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী বিমসটেক স্বাস্থ্য মেলার শেষ দিনে গতকাল দর্শনার্থীর ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের ওপর মানুষের যে আস্থা আছে, সেই আস্থা আয়ুর্বেদিক ওষুধের ক্ষেত্রেও তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলেন, ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনকে অ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনের পাশাপাশি রেখে একসঙ্গে ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের নিরাময়ে একটি ভালো সমাধান বের করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিমসটেক ট্র্যাডিশনাল হেলথ কেয়ার এক্সপোতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার ছিল এই মেলার শেষ দিন। গত বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তিন দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়। ভারতীয় চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) ও বাংলাদেশ আয়ুর্বেদ ফাউন্ডেশনের (বিএএফ) যৌথ উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিবার কল্যাণ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ভারত সরকারের আয়ুশ মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রথমবারের মতো এই মেলার আয়োজন করা হয়।

আয়োজকরা বলেন, মেলায় তাঁরা ভালো সাড়া পেয়েছেন। তবে যতটা আশা করেছিলেন, ততটা হয়নি। এ ধরনের মেলা প্রথমবার আয়োজন হওয়ায় উপস্থিতি কম হতে পারে। কিংবা যে দিনগুলোতে মেলা আয়োজন করা হয়েছে সেটি সঠিক ছিল না। তবে তাঁরা আশা করেন, আগামীতে এ মেলা আয়োজন করলে বেশ সাড়া পাওয়া যাবে।

মেলায় অংশ নেওয়া শক্তি ঔষধালয়ের চেয়ারম্যান এ বি এম গোলাম মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোগ নিরাময়ে বেশির ভাগ মানুষ অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের ওপর বেশি আস্থা রাখে। আয়ুর্বেদিক ওষুধের ওপর এই আস্থা আছে এমন মানুষের সংখ্যা এখনো খুব কম। আয়ুর্বেদিকের জন্য দেশে যত কম্পানি আছে, তার মধ্যে অন্যতম শক্তি ঔষধালয়। আমরা ১১১টি ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করছি। এগুলোতে কোনো কেমিক্যালের ব্যবহার নেই। ফলে এটা স্বাস্থ্যসম্মত এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। এই মেলার মাধ্যমে আমরা সেটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। তিন দিনের এই মেলায় বেশ সাড়াও পেয়েছি।’

মেলার সহ-আয়োজক ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক সুজয় ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোয়ালিটির দিক থেকে বলুন, আর সার্ভিসের দিক থেকে বলুন, ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন ধীরে ধীরে একটি জায়গায় উঠে এসেছে। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটানসহ বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কমন যে জিনিস, সেটা হলো ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন আমরা সবাই কমবেশি মানি। এই ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনকে অ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনের পাশাপাশি রেখে একসঙ্গে ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগের নিরাময়ে কিভাবে একটি ভালো সমাধান বের করা যায় সেই প্রচেষ্টা নেওয়া হচ্ছে। অ্যালোপ্যাথিক ও ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন পাশাপাশি রেখে একসঙ্গে এগোতে পারলে সবার জন্যই ভালো হবে।’ 

মেলা ঘুরে দেখছিলেন উত্তরার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম। মেলায় আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একজন ডায়াবেটিস রোগী। মেলায় দেখতে এসেছি ডায়াবেটিসের কোনো আয়ুর্বেদিক ওষুধ আছে কি না।’ তিনি বলেন, প্রকৃতির ফুল, ফল, গাছগাছড়া দিয়ে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হয়। এটা স্বাস্থ্যসম্মত ও দামেও সাশ্রয়ী বলে মনে করেন তিনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা