kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আ ক ম মোজাম্মেল বললেন

রাজাকারের তালিকা অংশীজনের মতামত নিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজাকারের তালিকা অংশীজনের মতামত নিয়ে

এবার অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সতর্কতার সঙ্গে রাজাকারের তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তবে এ তালিকা আগামী ২৬ মার্চ প্রকাশ হচ্ছে না।

আরো পরে তা প্রকাশ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ‘কালের কণ্ঠ মন্ত্রীর মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। মুজিববর্ষে তাঁর মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি, বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু প্রসঙ্গ ছাড়াও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচিহ্ন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণা ধারণ করে আর্কাইভে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কালের কণ্ঠ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পার্থ সারথি দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি গতকাল বিকেল ৫টায় কালের কণ্ঠ ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রচারিত হয়।

মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ধারণ করে সম্প্রচার করা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হবে ‘বীর নিবাস’। এই নামে একই নকশায় তৈরি করা হবে বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। একই নকশায় যাতে ‘বীর নিবাস’ তৈরি করা হয় তার জন্য মন্ত্রণালয় তদারকি করবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, কেজি স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা যাবেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণা করবেন। কমপক্ষে ১০ মিনিট তাঁরা স্মৃতিচারণা করবেন। তাঁদের এই স্মৃতিচারণা শুনে শিক্ষার্থীরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতি ঘিরে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে গ্রামে গ্রামে প্রদর্শন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ গ্রামে গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাজানো হবে।

তিনি জানান, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা লাভের জন্য পাকিস্তান আমল থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন আন্দোলনের ধাপগুলো পর্যটকসহ সবার কাছে তুলে ধরতে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের শত্রুপক্ষ পাকিস্তানিদের দোসরদের ইতিহাসও তুলে ধরা হবে। যাতে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাস জানতে পারে।

মুজিববর্ষে মুজিব মেলা করা হবে। সেখানে কবিতা পাঠ, রচনা পাঠসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি থাকবে। এটা মাসব্যাপী করা হবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ আয়োজন করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনার স্মৃতিচারণা রেকর্ড করে আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হবে, যা হবে লেখকদের গবেষণা ও লেখার বড় খোরাক।’

তাঁর নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা হবে। এগুলো একই নকশায় সংরক্ষণ করা হবে। যাতে ১০০ বছর পরও কেউ তা দেখলে তার ইতিহাস জানতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সকল জায়গায় পরিকল্পনা করা হয়েছে, সভা-সমাবেশ হয়েছে, প্রশিক্ষণ হয়েছে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই নকশায় সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি জেলা, উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক জাদুঘর গড়ে তোলা হবে। এই কাজটি শুরুর পথে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা