kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

আরো দুজনকে যৌন নিপীড়ন ►ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক নারী পোশাক শ্রমিক পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রবিবার রাতের এ ঘটনায় সোমবার রাতে আসাদুল শেখ (৩৬) নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে ভোলার চরফ্যাশনে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বাক্ ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু (১১) এবং রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্কুলছাত্রীকে ২৮ ডিসেম্বর অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছিল। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

সাভারে গ্রেপ্তার আসাদুল শেখ নাটোর সদরের তেবাড়িয়া গ্রামের সাদেক আলী শেখের ছেলে। আশুলিয়ার বাইপাইল বসুন্ধরাটেক এলাকায় শাহিন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। এ ঘটনায় মামলার পর আসাদুলকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, বাইপাইল বসুন্ধরাটেকের পূর্বপরিচিত বাবর আলীর বাড়ির কেয়ারটেকার মুসলিম উদ্দীন কিছুদিন আগে ওই নারীর কাছ থেকে দুই হাজার টাকা  ধার নেন। রবিবার বিকেলে তিনি পাওনা টাকা চাইতে গেলে আসাদুলসহ পাঁচজন তাঁকে অপবাদ দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে রাতে ধর্ষণ করেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্তরা।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক জিয়াউল ইসলাম (অপারেশন অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) জানান, ভুক্তভোগীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নে গতকাল সকালে নির্যাতিত শিশুকে (১১) নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিব হোসেন (১৯) চরজব্বরের চর হাছান গ্রামের ভূঁইয়ারহাট এলাকার খন্দকারবাড়ির মহসিনের ছেলে এবং নোয়াখালী শহরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিশুটিকে টাকা ও চকোলেট দেওয়ার কথা বলে রাকিব নিজেদের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। পরে শিশুটি ইশারা-ইঙ্গিতে বিষয়টি পরিবারকে জানায়।

চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, পলাতক রাকিবকে আটকে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মামলা করবেন।

রাজবাড়ীর স্কুলছাত্রীকে গতকাল সকালে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ২ জানুয়ারি একটি মামলা করেছেন। আদালতের নির্দেশে গতকাল রাজবাড়ী থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিরা হলেন রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দার ব্যাংকপাড়া গ্রামের শহিদের দুই ছেলে কাঠমিস্ত্রি কাশেম (২০) ও শাহিন (২৫) এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন।

ছাত্রীটির বাবা জানান, তাঁর মেয়েকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করে আসছিলেন কাশেম। বিষয়টি কাশেমের পরিবারকে জানালে কাশেম ক্ষিপ্ত হন। গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে মেয়েটি ফুফুর বাড়ি যাচ্ছিল। পথে কাশেম ও তাঁর সহযোগীরা মেয়েটিকে মুখে গামছা বেঁধে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে কাশেম মেয়েটিকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পরপরই মেয়েকে খুঁজতে থাকে পরিবার। একপর্যায়ে পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে কাশেমের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে জানায়। তাঁরা মেয়েটিকে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তাঁরা মেয়েটিকে ফেরত না দিয়ে কথিত এফিডেভিট তৈরি করে বিয়ের নাটক সাজান এবং দিনের পর দিন তাকে ধর্ষণ করেন কাশেম।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় প্রেম করে বিয়ে করার কথা বলে স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে শিশুটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নির্মাণ শ্রমিক যুবক আওলাদকে আসামি করে গতকাল চরফ্যাশন থানায় মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। আওলাদ এওয়াজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল মালেকের ছেলে।

চরফ্যাশন থানার ওসি মো. সামসুল আরেফীন বলেন, পলাতক আওলাদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা