kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

রেললাইন বিমানবন্দর হবে,পর্যটনেও চোখ

সোহেল হাফিজ বরগুনা   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রেললাইন বিমানবন্দর হবে,পর্যটনেও চোখ

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান তালুকদারকে পরাজিত করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই মেয়াদে সরকার গঠন করে বিএনপি। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। আর প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি ভুলে যাননি আমতলী-তালতলীর কথা।

জাতীয় সংসদে উপকূলীয় জেলা বরগুনার দুটি আসন। আমতলী, তালতলী ও সদর উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ এবং পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ সংসদীয় আসন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। আর বরগুনা-২ আসনে নির্বাচিত হন একই দলের শওকত হাসানুর রহমান রিমন।

জেলাবাসীর জন্য সবচেয়ে সুখের খবর হলো, আমতলী-তালতলী তথা বরগুনা জেলার উন্নয়নে ২০০১ সালের নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশনায় উপকূলীয় জেলাটিতে নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও জনগণের নানা সমস্যা সমাধানে তৎপর।

পায়রা সমুদ্রবন্দর হওয়ার কথা ছিল বরগুনার তালতলী উপজেলায়। কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারণে তা চলে যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়। এই সমুদ্রবন্দর ঘিরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। বন্দরকে সিঙ্গাপুরের আদলে সাজাতে রেললাইন, বিমানবন্দরসহ নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করে তালতলী উপজেলায়ও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা। তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। এ ছাড়া এখানে শিপ বিল্ডিং ও শিপ রিসাইক্লিং শিল্পসহ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ডকইয়ার্ড তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া উপজেলার সঙ্গে বরগুনার আমতলী, তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে দুর্যোগ সহনশীল এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন ঘোষণা করে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। এ প্রকল্পের অধীনে বরগুনা জেলা হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটনশিল্পের কেন্দ্রবিন্দু। আর তাতে আমতলী, তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন হবে পর্যটনশিল্পের।

এ ছাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতি ও বদরখালী এলাকা হয়ে মোংলা সমুদ্রবন্দর, ভোমরা এবং বেনাপোল স্থলবন্দর পর্যন্ত সরাসরি ৩০০ ফুট সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পায়রা ও বরগুনার বিষখালী নদীতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে জেলাবাসীর খেয়া পারাপারের ভোগান্তি লাঘব হবে।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু জানান, এরই মধ্যে বরগুনা-সুবিদখালী-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল সড়ক উন্নয়নের কাজ প্রায় শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের মহাসড়ক এলাকায় বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এ ছাড়া ১০০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। পুলিশ লাইন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক বরগুনা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু আরো জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রিসাইক্লিংয়ের জন্য বরগুনা পৌরসভার অধীনে একটি বিশাল প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাঁচ তলাবিশিষ্ট ফিশ ও ভেজিটেবল মার্কেট এবং পুরনো টাউন হল ভেঙে আধুনিক ডিজাইনের সুবিশাল নতুন টাউন হল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। শেখ কামাল হাইটেক পার্কের স্থানও চূড়ান্ত। আর জেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে এরই মধ্যে অনেক কাজ হয়েছে।

এদিকে জেলাজুড়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। প্রায় ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যাও অপ্রতুল। নবগঠিত তালতলী উপজেলায় জনসংখ্যার তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক কম। বিদ্যমান প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনগুলোর বেশির ভাগই জরাজীর্ণ। বছর চারেক আগে পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে এক শিশু শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে একটি দালালচক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, উপকূলীয় জেলাটিতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নকাজ হচ্ছে। তবে এক শ্রেণির বনদস্যুর দৌরাত্ম্যে জেলার সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় হচ্ছে। আবার বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়নকাজের মান ঠিক থাকছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা