kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পদ্মা সেতুর অনুদান অ্যাকাউন্টে ৩৭ লাখ টাকা

আট বছরে এক টাকাও তোলেনি সরকার

সজীব হোম রায়   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




পদ্মা সেতুর অনুদান অ্যাকাউন্টে ৩৭ লাখ টাকা

নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণে জনসম্পৃক্ততায় ২০১২ সালের আগস্টে সরকার সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে দুটি হিসাব খোলে। দেশে অবস্থানরত এবং বিদেশে অবস্থানরতরা যাতে স্বপ্নের সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করতে পারেন, সে জন্য পৃথক দুটি হিসাব খোলা হয়। এরপর গত আট বছরেরও বেশি সময়ে এই হিসাব দুটিতে সব মিলিয়ে জমা হয়েছে ৩৭ লাখ টাকা। তবে এই অর্থ থেকে এক টাকাও উত্তোলন করেনি সরকার। সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, এই হিসাব দুটির সঙ্গে পদ্মা সেতুর কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক নেই বলেই সরকার টাকা তুলছে না। তবে হিসাব দুটি বন্ধও করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব স্তরের জনগণ যাতে স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে সম্পৃক্ত হতে পারে বা অর্থায়ন করতে পারে সে জন্য সরকার দুটি হিসাব খোলে। পরবর্তীতে সক্ষমতা বাড়ার কারণে হিসাব দুটির আর প্রয়োজন পড়েনি। ফলে হিসাব দুটি থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা হয়নি। নতুন করে সেখানে অনুদানের অর্থ

দিতেও আর আহ্বান জানানো হয়নি।’

হিসাব দুটি বন্ধ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে হিসাব দুটির সঙ্গে এখন পদ্মা সেতুর কোনো সম্পর্ক নেই।’

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। ২০১২ সালের শুরুতে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বপ্নের এই প্রকল্পে সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন। আর জনগণ যাতে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করে অবদান রাখতে পারে, সে জন্য ওই বছরের আগস্টে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে দুটি আলাদা হিসাব খোলা হয়। একটির শিরোনাম দেওয়া হয় ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে স্বেচ্ছা অনুদান সহায়তা (নিবাসী)’। অন্যটির শিরোনাম দেওয়া হয় ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে স্বেচ্ছা অনুদান সহায়তা (অনিবাসী)’। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় (লোকাল অফিস) হিসাব দুটি পরিচালনা করছে।

সোনালী ব্যাংক সূত্র জানায়, শুরুতে সরকার জনগণের কাছে অনুদান চাইলেও পরে নীতিগতভাবে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ফলে তা নিয়ে আর কোনো প্রচার-প্রচারণা করা হয়নি। কিন্তু নির্দেশনা দিয়ে হিসাব খোলা এবং তা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অফিশিয়ালি বন্ধ করা হয়নি। সরকারের বার্ষিক বাজেট থেকেই পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রয়োজীয় অর্থের জোগান দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা