kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

গোপীবাগে হামলা, সংঘর্ষ

ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ৫, রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ৫, রিমান্ড

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচনী প্রচারকালে গত রবিবার ওয়ারী থানার গোপীবাগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকর্মীদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় থাকা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে ঘটনায় জড়িতদের ছবি পেয়েছে তদন্তকারীরা। গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিএনপির পাঁচ কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানার পুলিশ। তাঁদের এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সূত্র জানায়, ডিএসসিসিতে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন গত রবিবার মতিঝিল থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করে বেশ কিছু নেতাকর্মী-সমর্থকসহ মিছিলসহকারে টিকাটুলীর দিকে যান। মিছিলটি গোপীবাগে ইশরাকের বাসা থেকে দুই শ গজ দূরত্বে পৌঁছার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর একটি নির্বাচনী ক্যাম্প অফিসের সামনে সংঘর্ষ বাধে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের এই সংঘর্ষকালে সংবাদকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় বেশ কিছু গুলির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

ওই হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার রাতেই মাকসুদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় দেড় শ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে। গত রবিবার রাতে থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নূরুল আমিন কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজে তাদের উপস্থিতি রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে এডিসি নূরুল আমিন বলেন, ‘আমরা মামলার তদন্ত করছি। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপির কর্মী সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তারা সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত ছিল এমনটা প্রমাণ পেয়েই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।’

হামলা-সংঘর্ষের এই ঘটনায় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলায় আওয়ামী লীগ বা বিএনপির মনোনীত কোনো প্রার্থী আসামি নয়। যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা কোনো দলের কর্মী কি না সেসব বিষয়ও আমরা জানি না। তবে মামলায় তদন্তের প্রয়োজনে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।’

এদিকে ধানের শীষের মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, পুলিশ যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে তাঁরা সবাই বিএনপির কর্মী। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর ওয়ারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন মাকসুদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিন আহমেদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব।

পাঁচ কর্মী-সমর্থক রিমান্ডে : বিএনপির গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ কর্মী-সমর্থককে গতকাল বিকেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ওয়ারী থানার পুলিশ। তাঁরা হলেন জামিল আহমেদ তুহিন, বিল্লাল হোসেন, সোহেল, ফারুক ও আকরাম হোসেন মুন্না।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জুলফিকার আলী প্রত্যেককে সাত দিন রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে তাঁদের জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা। মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা বিএনপির আরো নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করে এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। প্রতিপক্ষের লোকজনকে হত্যার চেষ্টা চালান। তাঁদের হামলায় কয়েকজন গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন। আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তার এবং এই ঘটনার পেছনে যারা আছে তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা