kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব অব্যাহত

উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকের বৈঠকে ভালো শেয়ার, তারল্য বৃদ্ধি, প্লেসমেন্টে লক ফ্রির প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব অব্যাহত

আস্থাহীনতায় মহাসংকটে পড়া পুঁজিবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠছে। সরকার ও স্টেকহোল্ডারদের নানা তোড়জোড়ে নিষ্ক্রিয় থাকা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হওয়ায় বাজার ঊর্ধ্বমুখী। মূল্যসূচক বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনও। গত রবিবার মূল্যসূচকে বড় উত্থান হয়। গতকাল সোমবারও মূল্যসূচক বেড়েছে অর্ধশতাধিক পয়েন্ট।

ক্রমাগত পতনে পর্যুদস্ত পুঁজিবাজার উন্নয়ন নিয়ে নানা উদ্যোগের পর গত রবিবার বাজারে বড় উত্থান ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকালও পুঁজিবাজারে ছি গত সেপ্টেম্বরে  চাঙ্গাভাব। মূল্যসূচক বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছে ৫২ পয়েন্ট। শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৪৯টির, কমেছে ১৬১টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪ কম্পানির শেয়ার দাম।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের প্রতিনিধিদের নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির সঙ্গে গতকাল দুপুরে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাজার উন্নয়নে তারল্যের যোগান বাড়ানো ও ভালো কম্পানির আইপিও বাড়ানোসহ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছে বিএমবিএ। পাশাপাশি আইপিও লেনদেন চালুর পর শেয়ারে উচ্চ দাম ও পরবর্তীতে কমে যাওয়া রোধ করতে প্লেসমেন্টে লক ফ্রি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি শেয়ার কিনতে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের বড় অংশীদার। নানা ইস্যুতে তারা বাজারবিমুখ ছিল। তারা সরকারের কাছে তারল্যের যোগান চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছিল। বাজার নিয়ে গত ১৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠকে তারল্যের যোগান বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার বিষয় পর্যালোচনা করতে নির্দেশনা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে তাদের সক্রিয়তা বেড়েছে। শেয়ার কেনার পরিমাণ বাড়ায় তলানিতে থাকা বাজার ক্রমেই উঠতে শুরু করেছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে পতনের মতো কোনো কারণই ছিল না। কিছু বিনিয়োগকারী এই সংকট সৃষ্টি করেছে। নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায় নিয়ে বাজার ফেলে দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে।

ক্রমাগত পতনের ধারায় থাকা বাজারের উন্নয়নে গত সেপ্টেম্বরে অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) নিয়ে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। ওই বৈঠকের পর পুঁজিবাজার উন্নয়নে একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই প্রস্তাবনার আলোকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দু’জন ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আইসিবির এমডিকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির প্রথম দিনের সভায় কার্যত কোনো আলোচনা কিংবা কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ হয়নি। মার্চেন্ট ব্যাংকাররা পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও ভবিষ্য করণীয় নিয়ে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। সেই প্রস্তাব লিখিত আকারে দিতে বলেছে কমিটি। আজ মঙ্গলবার কমিটির দ্বিতীয় সভায় বাজার উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

পুঁজিবাজার উন্নয়ন কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের-বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকার খুব আন্তরিক ও আগ্রহী। বাজার উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও নেওয়া হবে।’

ছায়েদুর রহমান বলেন, বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে বলা হয়েছে। বাজার উন্নয়ন করতে পুঁজি সররবরাহ বা ফান্ডের যোগান দেওয়া প্রয়োজন। কমিটি এ বিষয়টিতে সম্মত হয়েছে। ভালো কম্পানির আইপিও বাড়ানোর বিষয়েও মতামত দেওয়া হয়েছে। কমিটি এই মতামত সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরবে বলে জানানো হয়েছে।

কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সঙ্গে এই কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু মার্চেন্ট ব্যাংকের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক করা হয়। কমিটির মূল বৈঠক আগামীকাল (আজ) অনুষ্ঠিত হবে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা