kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কমিটি গঠন নিয়ে বড় দুই দলে চরম বিরোধ

আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কমিটি গঠন নিয়ে বড় দুই দলে চরম বিরোধ

নানা নাটকীয়তায় শেষ হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কিন্তু জেলায় ক্ষমতাসীন দলটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গ্রুপিং আর কোন্দল শেষ হয়নি বরং আরো বেড়েছে। অন্যদিকে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির জেলা কাউন্সিল ঘিরে তৃণমূলে কমিটি গঠন চলছে। কিন্তু এসব কমিটি নিয়ে কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে জটিলতা। আর জেলার রাজনীতিতে অন্যতম বড় দল জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক তৎপরতা নেই বললেই চলে।

আওয়ামী লীগ : গত ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাফর আলী চেয়েছিলেন বরাবরের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে থাকতে। সভাপতি হিসেবে তাঁর পছন্দ ছিলেন সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম মণ্ডল। ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হলে তাঁর সেই ইচ্ছার প্রতিফলন হতো বলে মনে করেন দলের বেশির ভাগ নেতা। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা সেই সুযোগ না রেখে জাফর আলীকে সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহম্মেদ মঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে চলে যান। দুজনের মতানৈক্যের কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন বিলম্বিত হচ্ছে। পদ-পদবি পেতে শুরু হয়েছে লবিং-গ্রুপিং। জেলা আওয়ামী লীগে আগে থেকেই জাফর আলী ও আমান উদ্দিনের নেতৃত্বে দুটি ধারা সক্রিয়। নতুন কমিটি গঠনের পর সেই দ্বন্দ্ব আরো বেড়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে অনেক স্থানেই দ্বন্দ্বের কারণে কাউন্সিল করা যায়নি। রাজারহাটে গত ৩০ নভেম্বর পৃথক কাউন্সিলের মাধ্যমে দুটি কমিটি গঠন হয়েছে। শাহের উদ্দিন ধনিকে সভাপতি ও আবু নুর মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে চাষী আব্দুস সালামকে সভাপতি ও অধ্যক্ষ আসিফ সোহরাওয়ার্দী রাজনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি গঠন করে প্রতিপক্ষ গ্রুপ। রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পির সমর্থন রয়েছে এই গ্রুপের প্রতি। এ নিয়ে সংঘর্ষ, মামলার ঘটনাও ঘটেছে।

উলিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি শিউলীকে দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে জয়লাভের পর দলের একক নেতৃত্ব চলে আসে বর্তমান এমপি অধ্যাপক এম এ মতিনের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি মতি শিউলীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলে দলীয় কোন্দল চাঙ্গা হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল স্থগিত করতে হয়। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সম্মেলন হয়নি রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায়। রাজীবপুরে দুই পক্ষে সংঘর্ষ এবং মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপি : হামলা-মামলার মুখে কোণঠাসা হয়ে আছে জেলা বিএনপি। সক্রিয় কার্যক্রমও তেমন একটা চোখে পড়ে না। আছে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও। সাম্প্রতিক সময়ে দল গোছানোর তৎপরতা চলছে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলায় কমিটি গঠন শেষ হলে জেলা বিএনপির কাউন্সিলের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে দলটি। তবে সে সব কমিটি গঠন করতে গিয়ে অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্য হয়ে পড়ছে।

জেলা বিএনপিতে বর্তমান সভাপতি তাসভিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার নিয়ন্ত্রণ থাকলেও প্রতিপক্ষ গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। কমিটি গঠন নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের কর্মকাণ্ডে দলের একটি অংশ অসন্তুষ্ট। তাঁর একক সিদ্ধান্তে কমিটি গঠন নিয়ে নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্রে একাধিক অভিযোগও করা হয়েছে।

বিরোধের জের ধরে কিছুদিন আগে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল পৃথকভাবে কাউন্সিলের ডাক দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রানা তাঁর নাগেশ্বরীর বাসায় বসে কমিটি ঘোষণা করেন। নজীর হোসেন সভাপতি ও খোরশেদ আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এতে মুকুল গ্রুপ ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলবাড়ী বাজারে মিছিল-সমাবেশ করে। এ নিয়ে মহাসচিবের কাছে অভিযোগ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলায় নতুন করে কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু নির্দেশ দিয়েছেন।

নাগেশ্বরী উপজেলা সভাপতি গোলাম রসুল রাজা ও সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমানকে বাদ দিয়ে কমিটি করেছেন জেলা সাধারণ সম্পাদক। নতুন সভাপতি নূরুন্নবী দুলাল ও সম্পাদক বাবলু মিয়া।

গোলাম রসুল রাজা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জেলা সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার অগঠনতান্ত্রিকভাবে পকেট কমিটি গঠনের বিরুদ্ধে আমরা কেন্দ্রে অভিযোগ করেছি। এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’

তবে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘বর্তমানে দলে কোনো গ্রুপিং নেই। তবে নেত্বত্বের প্রতিযোগিতা আছে। এতে দলের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না।’

জাতীয় পার্টি : জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও সাবেক মন্ত্রী মাঈদুল ইসলামের মৃত্যুর পর জেলায় জাতীয় পার্টি অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তাদের তেমন কোনো সাংগঠনিক তৎপরতা চোখে পড়ে না।

জেলা কমিটির আহ্বায়ক সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর এলাকায় কম আসেন। দলের কোনো কর্মকাণ্ডেও তাঁকে দেখা যায় না। বিগত নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনের দলীয় এমপি পনির উদ্দিন আহমেদকে ঘিরেই জাপার রাজনীতি অনেকটা কেন্দ্রীভূত।

জেলা জাপার সদস্যসচিব পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি বলেন, ‘তৃণমূলের সব কমিটি নতুন করে গঠন করা হবে। আশা করা যায়, এরপর দল আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’

এর বাইরে জেলায় বাম সংগঠনগুলো ও জামায়াতের তেমন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নেই। তবে জামায়াত ভেতরে ভেতরে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা