kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বড় উদ্বেগের কারণ মাদক, খুনখারাবি

আলমগীর চৌধূরী জয়পুরহাট   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় উদ্বেগের কারণ মাদক, খুনখারাবি

সীমান্ত জেলা জয়পুরহাটে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে আছে। মাদকসেবী ও কারবারিদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর। গ্রেপ্তার হচ্ছে অনেকে। কিন্তু মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যাই শুধু বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা খুনের ঘটনায়ও। খুন হচ্ছে, কিন্তু পুলিশ প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করতে পারছে না। জেলার পুলিশ বিভাগ ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ও খুনের বেশ কিছু মামলা পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জয়পুরহাট শহরের মাড়োয়ারি কাপড়পট্টিতে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর রাতে কাপড় ব্যবসায়ী কিষণ লাল রংটা (৬৩) ও তাঁর স্ত্রী দেবী রংটা (৫৬) খুন হন। খুনিরা বাসা থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে যায়। বিগত ২০১৮ সালে জেলায় এই দম্পতিসহ ২১টি খুনের ঘটনা ঘটে। আর চলতি বছরের ১১ মাসে জেলায় ২৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। মাদকের মামলা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার।

কিষণ লাল-দেবী দম্পতি হত্যার ঘটনায় তাঁদের ছেলে বিক্কি রংটা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। কিন্তু মামলা দায়েরের এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে। সিআইডির উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলাটির দায়িত্ব পাওয়ার পর আসামি শনাক্ত করা গেলেও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।’

নিহত দম্পতির ছেলে বিক্কি রংটা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘নির্জন বাড়িতে মা-বাবাকে খুন করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেল। মামলাও হলো। অথচ এক বছরেও আসামি ধরতে না পারাটা আমাদের জন্য হতাশার। বর্তমানে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

মাড়োয়ারিপট্টির স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্যামল হোসেন বলেন, ওই খুনের ঘটনার প্রায় এক মাস আগে বাজারের একটি জুয়েলারি দোকানের গ্রিল ও তালা কেটে সোনা ও টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনারও কোনো ক্লু বের করতে পারেনি পুলিশ। জোড়া খুন ও সোনার দোকান লুটের পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। ভয়ে বাজারের সোনা ব্যবসায়ীরা সন্ধ্যার পর আর কেউ দোকান খোলা রাখেন না।

এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর জয়পুরহাট শহরের প্রাণকেন্দ্র জনবহুল পুরাতন বাটার মোড় এলাকার জনতা ব্যাংক থেকে দিনের বেলায় ৪৫ লাখ টাকা চুরি হয়। সেখানে সিসিটিভির ফুটেজে চোরসহ চুরির দৃশ্য ধরা পড়লেও কোনো কিনারা করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। আর ওই ঘটনায় তৎকালীন ব্যবস্থাপকসহ ব্যাংকের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ৪৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এর বেশির ভাগটাই আবার  পাঁচবিবি থানার মধ্যে। এই থানা থেকে রামভদ্রপুর ভায়া রতনপুর, উঁচনা, আটাপাড়া ভায়া বাগজানা, আটাপাড়া থেকে চেঁচরা, হিলি থেকে বেড়াখাই, জয়পুরহাট থেকে সৈয়দ আলীর মোড় সড়ক মাদক চোরাচালানের নিরাপদ রুট। প্রতিবেশী ভারত থেকে এসব রুট দিয়ে নানা কায়দায় ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার হয়ে থাকে। চোরাকারবারিদের অনেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরাও পড়ছে। কিন্তু মাদকের চোরাচালান থামছে না।

পুলিশের ট্যাগ লাগানো ৬৬৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আব্দুল হালিম নামের এক মাদক কারবারিকে গত ১৯ নভেম্বর রাতে জয়পুরহাট শহরের শান্তিনগর এলাকা থেকে আটক করেন র?্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সদস্যরা। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার দশদার পালপাড়া গ্রামে। বাবার নাম সিদ্দিকুর রহমান। একইভাবে গত রবিবার আক্কেলপুর উপজেলায় ২০ লিটার চোলাই মদসহ মোসলেম উদ্দিন নামের এক ইউপি সদস্য ও তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জয়পুরহাট র‌্যাব-৫ ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুর রশিদ জানান, মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মাদক কারবারিরা ধরা পড়ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) তরিকুল ইসলাম বলেন, মাদক হলো সব অপরাধের জনক। মাদক নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে অন্য অপরাধও কমে আসবে। আর পারিবারিক কলহসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনায় জেলায় খুনের ঘটনা ঘটছে। তবে খুনের সংখ্যা দিয়ে কখনো আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি-অবনতি পরিমাপ করা যায় না। এর পরও খুন অবশ্যই কাম্য নয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা