kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

শীত-কুয়াশায় ক্ষতি হচ্ছে বীজতলার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শীত-কুয়াশায় ক্ষতি হচ্ছে বীজতলার

শৈত্যপ্রবাহ আর কুয়াশায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। গত রবিবার মধ্যরাতে চাঁদপুর ও বরিশাল সীমান্তবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে নোঙর করা একটি লঞ্চকে অন্য একটি লঞ্চ ধাক্কা দিলে এক পোশাক শ্রমিক ও তাঁর শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়েছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে ১০ ঘণ্টা পর ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

গতকাল সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা টেকনাফে ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দিনে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। আর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় রাত ও দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে রংপুরের পীরগাছায় বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার তাম্বুলপুর, কৈকুড়ী, কান্দি ও পীরগাছা সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনের অব্যাহত ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে বীজতলার চারাগাছ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

কৈকুড়ী ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের কৃষক মাহবুবার রহমান জানান, তিনি বীজতলায় উচ্চ ফলনশীল জাতের হাইব্রিড ও ব্রি-২৮ জাতের বীজ ফেলেছেন, কিন্তু ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কান্দি ইউনিয়নের দাদন আব্দুস ছালাম জানান, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ওষুধ প্রয়োগ করেও বীজতলা রক্ষা করা যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমুর রহমান করণীয় প্রসঙ্গে কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিদিন সকালে বীজতলার চারাগাছে আটকে থাকা কুয়াশার পানি রশি দিয়ে টেনে ফেলে দিতে হবে। প্রয়োজনে রাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, এবার পৌষ মাসের শুরু থেকেই অধিকাংশ সময় পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। মাঝে কয়েক দিন পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির পর পঞ্চগড়ে আবারও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে দুর্ভোগ বাড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের। রবিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এক দিনের ব্যবধানে গতকাল তা আরো কমে দাঁড়ায় ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ক্ষতি এড়াতে বোরো বীজতলাগুলো অধিকাংশ সময় ঢেকে রাখা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের ভিড় থাকছেই। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে এই জেলার ওপর দিয়ে। ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। এ মাসেই আরো একাধিক শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে ১০ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। কুয়াশাঢাকা রুটে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ফেরি চলাচল। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় স্বাভাবিক হয় ফেরি চলাচল। এতে শিমুলিয়া ঘাটে পাঁচ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় মাঝ পদ্মা ও ঘাট এলাকায় আটকা পড়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা ভোগান্তির শিকার হয়। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে সিগন্যাল বাতি ও মার্কিং পয়েন্ট অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছয়টি ফেরি মাঝনদীতে নোঙর করতে বাধ্য হয়। কুয়াশার প্রকোপ কমলে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর গতকাল সকাল ৭টায় কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ফেরি ছাড়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা