kalerkantho

বুধবার । ২২ জানুয়ারি ২০২০। ৮ মাঘ ১৪২৬। ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফের আশ্বাস ভারতের

এনআরসি এ দেশে প্রভাব ফেলবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এনআরসি এ দেশে প্রভাব ফেলবে না

ফাইল ছবি

ভারতে নাগরিক তালিকা বা এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (সিএবি) বাংলাদেশের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে ফের আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে গতকাল রবিবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় এ আশ্বাস মিলেছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এবং অক্টোবরে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন গতকাল ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান।

আশ্বাসের পরও ভারত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেছে—সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত সপ্তাহে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। আজকেও (রবিবার) অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। ওগুলোতে তাদের একই অবস্থান। এগুলো বাংলাদেশকে প্রভাবিত করবে না।’ তিনি বলেন, “ভারত কাউকে ‘পুশ ইন’ করছে না। যারা আসছে তারা কোনো ধরনের ফড়িয়ার কারণে আসছে। বাংলাদেশের নাগরিক না হলে আমরা তাদের বিদায় করে দেব।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের নাগরিক তাদের দেশে ফেরার অধিকার আছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন বেশ ভালো। এখানে যারা আসে তারা কাজকর্ম পেয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা অতি দরিদ্র তারা বিনা পয়সায় খাবার পাচ্ছে। এগুলো প্রলোভন হিসেবে কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতে অনেকের চাকরি-বাকরির অভাব দেখা দিয়েছে। সে কারণে তারা হয়তো আসছে। এ ছাড়া কিছু ফড়িয়া লোক তাদের বলছে তোমরা বাংলাদেশে গেলে বিনা পয়সায় খেতে পারবে।’ তিনি বলেন, ভারত সরকার বাংলাদেশকে বারবার বলেছে এবং এখনো বলছে যে তারা কাউকে ‘পুশ ইন’ করছে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, আমাদের কোনো লোক যদি অবৈধভাবে থাকে ওখানে তাহলে আপনারা আমাদের জানান। একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর আছে। সে নিয়মে আমরা তাদের ফিরিয়ে আনব।’

অবৈধ অভিবাসীর উৎস হিসেবে ভারতের রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকারকে আমরা বিশ্বাস করব। ব্যক্তিবিশেষকে আমরা বিশ্বাস করি না। ব্যক্তিবিশেষ হয়তো তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কারণে অনেক কিছু বলে থাকে। সরকারিভাবে তারা আমাদের বলেছে, এটি আমাদের কোনোভাবে প্রভাবিত করবে না।’

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সরকারে ও শেখ হাসিনার সরকারের সময় কোনো ধরনের সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে না। কিন্তু এর আগে যখন সামরিক বা অন্য সরকার ছিল তখন দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কিছুটা নির্যাতন হয়েছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তো সত্যি। সত্যি বললে বিশ্বাস করতেই হবে। তবে ২০০১-এ যেটি ঘটেছিল সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি তাদের ওপরও কিন্তু খুব নির্যাতন হয়েছিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা