kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

সচিবালয়ের তিন পাশেই খোলা প্রস্রাবখানা

নাকে রুমাল চাপলেও দুর্গন্ধ আসে

বাহরাম খান   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সচিবালয়ের তিন পাশেই খোলা প্রস্রাবখানা

সচিবালয়ের তিন দিকেই দেয়াল ঘেঁষে ভাগাড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেগুলো কার্যকর করার আদেশ-নির্দেশ এখান থেকে জারি হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা সব সময় গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করা হয়। কিন্তু স্থাপনাটির তিন পাশেই খোলা প্রস্রাবখানা এর পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ওই তিন পাশের সড়ক ঘেঁষে হাঁটাচলাও দায় হয়ে পড়েছে।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পক্ষ থেকে অধীন দপ্তরগুলোতে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে সচিবালয় থেকে এসব নির্দেশনা গেছে সেখানকার পরিবেশই প্রশ্নবিদ্ধ। রাজধানীর আবদুল গণি রোড ও তোপখানা রোডের মাঝে অবস্থিত সচিবালয়ে প্রতিদিন কমবেশি ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষের আনাগোনা হয়। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম এই স্থাপনায় প্রায় সব মন্ত্রীর অফিস। আছে প্রধানমন্ত্রীর অফিসও। এ ছাড়া প্রতিদিন সচিবালয়ে আসেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক ও উন্নয়নকর্মীরা।

সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৫টিই সচিবালয়ে। দক্ষিণমুখী সচিবালয়ের সামনের অংশটি তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন। বাকি তিন দিকে দৈন্যদশা চোখে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সচিবালয়ের উত্তর-পশ্চিম কোনার (জাতীয় প্রেস ক্লাবের পূর্ব পাশে) দেয়াল ঘেঁষে পথচারীরা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করে। ওই দেয়ালের বেশ কয়েক জায়গায় সাদা কাগজে লেখা আছে ‘এখানে প্রস্রাব করা নিষেধ’। ভুল বানানে লেখা এই সতর্কবাণীটি কারা টানিয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি। এরপর মোড় ঘুরে সচিবালয়ের উত্তর-পূর্ব পাশে গিয়েও  প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার দৃশ্য চোখে পড়ল। উত্তর পাশের দেয়াল ঘেঁষে পূর্ব দিকে কিছু দূর গেলেই চোখে একটি নিরাপত্তা চৌকি। চৌকিটির কিছু দূরেই আবারও প্রস্রাবখানার চিত্র। এখানে ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বুঝা গেল নিরাপত্তা চৌকিটি কাছে থাকার কারণে দিনের বেলা কেউ সেখানে প্রস্রাব করে না। এরপর নজর গেল সচিবালয়ের পূর্ব পাশে (মুক্তাঙ্গনের বিপরীত পাশে)। এই পাশের এক কোনায় সোনালী ব্যাংক, আরেক কোনায় নিরাপত্তা চৌকি। মাঝে সংবাদপ্রত্রের স্টল এবং আরেকটি নিরাপত্তা চৌকি আছে। সোনালী ব্যাংক ও সংবাদপত্র চৌকির মাঝের জায়গাতে রয়েছে আরেকটি প্রস্রাবখানা। এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় উৎকট গন্ধ নাকে আসে। বুঝা গেল রাতের বেলায় ওই জায়গায় মলত্যাগ করার ঘটনা ঘটে। সংবাদপত্র স্টলের পাশেই সচিবালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতীয় নিরাপত্তা চৌকি। চৌকিটিকে অনেকটা পরিত্যক্ত মনে হলো। পরে জানা গেল পায়খানা-প্রস্রাবের গন্ধের কারণে এখানে নিরাপত্তারক্ষীরা বসতে পারেন না, তাই এটি খালি পড়ে আছে।

তিন পাশ ঘুরে সচিবালয়ের দক্ষিণ পাশে যাওয়ার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন এপিবিএন সদস্যের কাছে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নিরাপত্তারক্ষী কালের কণ্ঠকে বলেন, এদিকে পথচারীরা মাস্ক পড়ে হাঁটে। আর আমাদের সারা দিন গন্ধের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়। তিনি আরো বলেন, সচিবালয়ের ভেতরে অফিসাররা এসি রুমে থাকেন। তাঁদের নাকে গন্ধ যায় না।’ সচিবালয়ের উত্তর পাশের নিরাপত্তা চৌকিতে দায়িত্ব পালনকারী একজন জানান, মেট্রো রেলের কাজ শুরু হওয়ার পর সচিবালয়ের দেয়াল ঘেঁষে মলত্যাগকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। সচিবালয়ের দক্ষিণ পাশটি পরিষ্কার থাকলেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা থাকে।

সচিবালয়ের ইডেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো দেখি। বাইরের বিষয়গুলো সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডর জাহিদ হোসেন জানান, প্রতি রাতেই তাদের কর্মীরা সচিবালয়ের চারপাশ পরিষ্কার করেন। সকাল থেকে পথচারীদের কারণে ওই এলাকাটি নোংরা হয়ে যায়।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে। কেউ যদি সচিবালয়ের দেয়াল ঘেঁষে অন্য কাজ করে, সেটা তো আমরা ঠেকাতে পারব না।’ তিনি আরো বলেন, সচিবালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সিসি ক্যামেরা বা নিরাপত্তাব্যবস্থায় এটি (প্রস্রাবের দৃশ্য) ধরা পড়ার কথা। বিষয়টি হয়তো তারাই দেখবে। সচিবালয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (নিরাপত্তা-২) ফিরোজ উদ্দিন খলিফা। তিনি গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সচিবালয়ের মতো স্থাপনার পাশে এমন দৃশ্য গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা একাধিকবার নোটিশ দিয়ে, মোবাইল কোর্ট করে চেষ্টা করেছি। কিন্তু মানুষের এত চাপ সামলানো কঠিন।’ তিনি আরো বলেন, ‘সচিবালয়ের উত্তর-পশ্চিম কোণে মেট্রো রেলের একটি স্টেশন হবে। ওই কাজটির জন্যই অপেক্ষা করছি। কিছুদিনের মধ্যে আপনারা সচিবালয়ের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা