kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা চালুর উদ্যোগ

থাকছে না স্টাডি সেন্টার

শরীফুল আলম সুমন   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা চালুর উদ্যোগ

বাংলাদেশে ফের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই স্টাডি সেন্টার রাখা হবে না। এ জন্য পাঁচ বছর আগে করা ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকে সংশোধিত বিধিমালার খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

জানা যায়, ২০১৪ সালে পুরনো বিধিমালাটি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার করতে অসংখ্য উদ্যোক্তার চাপ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের চাপে ওই বিধিমালা স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিধিমালাটি সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তখন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির উপস্থিতিতে ইউজিসির ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে একটি সভা করা হয়। এরপর বিধিমালা সংশোধনের জন্য ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। 

অধ্যাপক আখতার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে আরো দু-একটি মিটিংয়ের প্রয়োজন হবে। আশা করছি, খুব শিগগির আমরা সংশোধিত বিধিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে পারব। সংশোধিত বিধিমালা জারি হলে শুধু মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাসই এ দেশে আসতে পারবে।’

ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, মূল বিধিমালার বেশ কিছু জায়গায় সংশোধন আনা হচ্ছে। সংশোধিত বিধিমালায় স্টাডি সেন্টার রাখা হচ্ছে না, শুধু শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের এক সেমিস্টার মূল ক্যাম্পাসে পড়তে হবে। শাখা ক্যাম্পাসেও বোর্ড অব গভর্ন্যান্স বা ট্রাস্টি বোর্ড থাকতে হবে। বিদেশি শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য কাজে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইউজিসির মতামত নিতে হবে। আগের বিধিমালায় শাখা ক্যাম্পাসের জন্য নিজস্ব বা ভাড়া ভবনে ২৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ও ব্যাংকে পাঁচ কোটি টাকার সংরক্ষিত তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছিল। সেখানেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।  

এ ছাড়া আগের বিধিমালায় বলা হয়েছিল, এই বিধিমালা জারির আগে স্থাপিত ও পরিচালিত সব শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টারকে বিধিমালা জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিদর্শন ফি দাখিল করতে হবে। এর আগে কোনো শিক্ষার্থী কোনো শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টারে পরীক্ষা দিয়ে ডিগ্রি অর্জন করলে সেগুলোর প্রত্যয়ন দেবে ইউজিসি। কিন্তু সংশোধিত বিধিমালায় বলা হচ্ছে, যারা আগে থেকেই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার পরিচালনা করছে, তারা ফি দিয়েও বৈধ হতে পারবে না। তাদের ইস্যু করা সার্টিফিকেটের বৈধতাও দেবে না ইউজিসি।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে শতাধিক স্টাডি সেন্টার পরিচালনা করা হচ্ছে। ইউজিসি থেকে বারবার এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানছে না। এমনকি কয়েক বছর আগে ৫৬টি স্টাডি সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল ইউজিসি। সংশোধিত বিধিমালা জারির পর অনুমোদনহীন অবস্থায় চলা এসব স্টাডি সেন্টার আইনগতভাবেই নিষিদ্ধ হবে।

দেশে এখন ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু আছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫ থেকে ২০টি বাদে বাকি সবই মানহীন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই ভর্তি হলে পড়ালেখা ছাড়াই ভালো ফলাফলের সার্টিফিকেট দেওয়ার গ্যারান্টি দেয়। এই অবস্থায় দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ক্যাম্পাস আসা নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। কেউ বলছে, অখ্যাত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট বিক্রির দ্বার উন্মোচিত হবে। আর কেউ বলছে, শুধু মানসম্মত নামি বিশ্ববিদ্যালয় এলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে। এতে উচ্চশিক্ষার মান বাড়বে।

জানা যায়, ২০১৪ সালে বিধিমালাটি জারির পর শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার অনুমোদনের জন্য ১৪ জন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আবেদন করেন। এরপর নানা যাচাই শেষে এডুকো বাংলাদেশের মোনাস কলেজ প্রা. লি. অস্ট্রেলিয়া স্টাডি সেন্টার, ব্যাক ইন্টারন্যাশনালের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি স্টাডি সেন্টার ও সেন্টার ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশনের লন্ডন স্কুল অব কমার্স স্টাডি সেন্টার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ইউজিসি। তবে বিধিমালাটি স্থগিত হওয়ার পর ওই স্টাডি সেন্টার আর অনুমোদন পায়নি। তবে সংশোধিত বিধিমালায় স্টাডি সেন্টার না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা