kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

নতুন নির্দেশনা

পাচারের অর্থ চিহ্নিত করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাচারের অর্থ চিহ্নিত করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থপাচারকে উচ্চঝুঁকি হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। পাশাপাশি পাচারের অর্থ চিহ্নিত করতে কৌশলগত বিশ্লেষণের জন্য একজন উপমহাব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিএফআইইউ থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যাংকের করণীয় বিষয়ে গাইডলাইন তৈরি, বৈদেশিক বাণিজ্যের কাজে নিয়োজিত সব ব্যাংক কর্মকর্তাকে বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং বিষয়ক প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা, বিদেশে অর্থপাচারের মামলা তদন্তে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে তাত্ক্ষণিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।

জানা যায়, বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থপাচার বা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আওতায় গত মঙ্গলবার গাইডলাইনস জারি করে মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে কার্যরত বিএফআইইউ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ফোকাস গ্রুপ এই গাইডলাইনের খসড়া প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে বিএফআইইউ সবার মতামতের জন্য গাইডলাইনসটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে গতকাল চূড়ান্ত গাইডলাইন সংবলিত সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংক বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব গাইডলাইন প্রস্তুত করে ২০২০ সালের ১০ মার্চের মধ্যে বিএফআইইউকে দাখিল করতে হবে। ২০২০ সালের ১ জুন থেকে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, পাচার করা অর্থের বেশির ভাগ, ৮০ শতাংশেরও বেশি বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচার হয়। বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডির যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘বাংলাদেশের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদনেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং ও বিদেশে অর্থপাচারকে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) কর্তৃক অর্থপাচার বিষয়ক গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রেড মিসইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ বাইরে চলে গেছে এমন প্রথম ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৮তম। একই রিপোর্টে ট্রেড মিসইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ দেশে প্রবেশ করেছে এমন প্রথম ৫০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা