kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

বনানীতে চীনা নাগরিকের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার

অফিস কক্ষে ধস্তাধস্তি ও রক্তের চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বনানীতে চীনা নাগরিকের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার

রাজধানীর বনানীতে গাও জিয়ানহুই (৪৭) নামের এক চীনা নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে এ-ব্লকের ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর বাড়ির পেছনের দেয়াল ও সীমানাপ্রাচীরের ফাঁকা জায়গায় অর্ধেকটা শরীর মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় লাশটি পাওয়া গেছে। গাও জিয়ানহুই  ১০ তলা বাড়িটির ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

তদন্তকারীরা জানান, গাও জিয়ানহুইয়ের ফ্ল্যাটে জিনিসপত্র তছনছ করা হয়নি। তাঁর অফিস কক্ষে জুতার ওপর কয়েক ফোঁটা রক্ত ও কয়েকজনের ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে গত মঙ্গলবার রাতে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লিফটে করে লাশ নামিয়ে বাড়ির পেছনে পুঁতে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বাড়িটির সিসি ক্যামেরা দেড় মাস ধরে বিকল থাকায় কোনো আলামত মেলেনি। নিহতের গাড়িচালক সুলতান, বাড়ির ম্যানেজার, গৃহকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘বাড়ির লোকজনের কাছে খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে আমরা এসে বাড়ির পেছনের ফাঁকা জায়গায় উপুড় করে ফেলে রাখা অবস্থায় লাশ দেখতে পাই। সিআইডি, ডিবি, পিবিআইসহ আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি।

পায়ের গোড়ালি আর মাথার চুলসহ শরীরের অনেকটা অংশ মাটির ওপর বেরিয়ে ছিল। লাশের নাক-মুখে রক্ত এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ব্যাবসায়িক কারণে বা পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। নিহতের গাড়িচালক সুলতানসহ ছয়জনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

সুদীপ কুমার জানান, চীনের হুজিয়ান শহরের বাসিন্দা গাও জিয়ানহুই কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে আছেন। দেড় বছর ধরে বনানীর ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। এক ছেলে ও এক মেয়েসহ তাঁর স্ত্রী প্রায়ই বাংলাদেশে এসে তাঁর সঙ্গে থাকতেন। গাও জিয়ানহুই ১৭-১৮ বার চীনে আসা-যাওয়া করেছেন। সর্বশেষ গত ৭ ডিসেম্বর তিনি চীন থেকে আসেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের ঢাকায় আসার কথা।

ডিসি সুদীপ আরো জানান, গাও জিয়ানহুই আগে উত্তরায় থেকে গার্মেন্টের লেইস সরবরাহের ব্যবসা করতেন। পরে তিনি ব্যবসা বাড়িয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ব্যবসা রয়েছে। এই চীনা নাগরিক ইংরেজি ও বাংলা বলতে পারেন না। তাঁর একজন দোভাষী ছিল। বাসায় কিছু চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশিকে মাঝেমধ্যে নিয়ে এলেও তারা কেউ বাসায় থাকত না।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক লাভলু, নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রউফ ও ব্যবস্থাপক বাপ্পী জানান, গত মঙ্গলবার বিকেলের পর গাও জিয়ানহুইকে তাঁরা কেউ দেখেননি। গতকাল সকাল ১১টার দিকে তাঁর গাড়িচালক সুলতান এসে জানান, বাসার দরজা খোলা, কিন্তু জিয়ানহুই নেই। পরে গাড়িচালকই খুঁজে বের করেন, বাড়ির পেছনে গাও জিয়ানহুইয়ের লাশ মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লিফটের পেছনে বাড়ির ফাঁকা অংশটুকুতে যাওয়ার একটি দরজা আছে। একইভাবে পেছনের পূর্ব পাশেও বাড়ির বাইরে থেকে একটি দরজা আছে, যা তালাবদ্ধ।

গুলশানের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ বলেন, বাড়ির সিসি ক্যামেরাটি গত ২৩ অক্টোবর থেকে অচল আছে। গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে গাও জিয়ানহুই বাইরে থেকে বাসায় ফেরেন। সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাঁর গৃহকর্মী বাসায় ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন কর্মচারীরা। তবে রাতে বাসায় কারা ছিল তা তাঁরা জানাতে পারেননি।

গতকাল বিকেলে ঘটনাস্থলে ফ্ল্যাট মালিক ও কিছু চীনা নাগরিক এলেও তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা