kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

ক্যাসিনো-বিধ্বস্ত ওয়ার্ডের সম্মান ফেরানোর প্রত্যয়

ডিএসসিসি ওয়ার্ড ৯

জহিরুল ইসলাম   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ক্যাসিনো-বিধ্বস্ত ওয়ার্ডের সম্মান ফেরানোর প্রত্যয়

রাজধানীর মতিঝিলের একাংশ, আরামবাগ, দিলকুশা ও ফকিরাপুল নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড। গত কয়েক মাসে দেশজুড়ে সরকারের শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি ওলটপালট হয়েছে এই এলাকার চিত্র। অনেক দাপুটে নেতা এখন বিচারের অপেক্ষায়। অনেক নেতা চলে গেছেন আড়ালে, অনেকে গেছেন চুপসে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন। সরকারদলীয় নেতাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা দ্বিধাবিভক্তি। ক্লাবপাড়ার সম্মান ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ক্যাসিনোকাণ্ডে বিধ্বস্ত এই ওয়ার্ডটিতে সম্প্রীতির সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ ছাড়া প্রার্থীরা বলছেন, ভবিষ্যতে ক্যাসিনো জুয়ার আড্ডা আর বসতে দেওয়া হবে না। জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। মাদক এবং চাঁদাবাজির মতো কোনো অন্যায় হতে দেওয়া হবে না।

জানা যায়, দেড় লক্ষাধিক জনসংখ্যার এই ওয়ার্ডটিতে ভোটার রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার। আসন্ন নির্বাচনে এই ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের রয়েছে আধাডজন সম্ভাব্য প্রার্থী। কোণঠাসা বিএনপিরও রয়েছে একাধিক। এর মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম শামীম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাঈনু, সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাদের, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য বাহালুল আলম বাহার, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহক্রীড়া সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, ঢাকা দক্ষিণ শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এইচ এম মাহবুব, মতিঝিল থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ আলী, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিরুল ইসলাম মল্লিক পিন্টু এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহিষ্কৃত কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ এলাকার জনগণের জন্য কোনো কাজ করেননি। বরং ‘নেতাপূজা’ করে টাকার মালিক হয়েছেন। ফুটপাতে চাঁদাবাজি করেছেন। ক্লাবের ক্যাসিনো খেলার চাঁদা তুলে বিদেশে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন। নাগরিক সমস্যা নিয়ে তাঁর কোনো মাথাব্যথাই ছিল না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মতিঝিল, আরামবাগ ও ফকিরাপুলের বেশ কিছু রাস্তার উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে আছে। জানা যায়, ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া খালেদের প্রতিষ্ঠান কাজগুলো করছিল। সিটি করপোরেশন নতুন ঠিকাদারকে কাজ দিলে ফের সে কাজ শুরু হবে। আরামাবাগ, ফকিরাপুল এক নম্বর গলিতে খাওয়ার পানির সমস্যাও চরম। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মিয়া বলেন, ‘ওয়াসার পানিতে মাঝেমধ্যে মুখ দেওয়া যায় না। আবার অনেক সময় পানিও থাকে না।’ এক নম্বর গলির রাস্তাটিও সরু, তার ওপর খানাখন্দে ভরা। এলাকার মূল সড়কগুলোর কাজ আর সরু রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ধুলাবালিতে অস্বস্তিতেই থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এলাকার পরিস্থিতি এবং উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে আমিনুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘এলাকার মূল সমস্যা ছিল ক্যাসিনো। প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানে এখন শান্তি ফিরেছে। তবে সন্ত্রাসীরা এখনো তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় আছে। মোবাইল ফোনে মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে। কিশোর গ্যাংও দেখা যায়। আমি দলের সমর্থনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার এসব সমস্যা দূর করব।’

আবদুল কাদের বলেন, ‘দল থেকে সমর্থন চাই। নির্বাচিত হলে ক্যাসিনোকাণ্ডের মতো আর কোনো পরিস্থিতি যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখব। ওয়ার্ডের চারপাশের রাস্তা প্রশস্ত হলেও অলিগলির রাস্তা অনেক সরু। এগুলো প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নামস্বর্বস্ব কিছু ক্লাব জায়গা দখল করে আছে। এদের চিহ্নিত করে জায়গাগুলো উন্নয়নকাজে লাগানো যেতে পারে। জায়গার জন্য কমিউনিটি সেন্টার হচ্ছে না। বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।’

বাহালুল আলম বাহার বলেন, ‘যুবসমাজকে ধ্বংস থেকে উদ্ধার করা, চাঁদাবাজি বন্ধ, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে। দলের সমর্থনে নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গড়ব দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।’

আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, ‘এই ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা কমিনিউটি সেন্টার না থাকা। সাধারণের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠও দরকার। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে সুন্দর হিংসামুক্ত সমাজ গড়ার জন্য কাজ করব।’

এইচ এম মাহবুব বলেন, ‘দলের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। বিজয়ী হলে বিপর্যস্ত এই ওয়ার্ডটির ইমেজ পরিবর্তনে কাজ করব। বিশেষ করে এই এলাকায় লাখের ওপর শ্রমিক প্রিন্টিং সেক্টরে কাজ করে। তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রেখে কাজ শুরু করব।’

মোস্তাফিজুর রহমান মাঈনু বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা, মাদক, কিশোর গ্যাং এসব সমস্যা কিছুটা আছে। আসলে এসব সমাধানে প্রশাসনকে সহায়তা করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এসব নিয়ে কাজ করব। ক্যাসিনো বদনাম কাটাতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করব।’

আহাম্মদ আলী বলেন, ‘দল সমর্থন দিলে নির্বাচন করব। নির্বাচিত হলে কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধকর্ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করব।’

নাসিরুল ইসলাম মল্লিক পিন্টু বলেন, ‘দল থেকে যাকে সমর্থন দেবে তার হয়ে কাজ করব। আমাকে যদি দেয় তবে আশা করি আমার হয়েও অন্যরা কাজ করবে। ক্যাসিনো অভিযানের পর আমরা একটি স্বচ্ছ পরিষ্কার রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা