kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বানারীপাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে তিন খুন

গ্রেপ্তার দুজন বলছে লুটপাট করতেই হত্যাকাণ্ড

বরিশাল অফিস   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রেপ্তার দুজন বলছে লুটপাট করতেই হত্যাকাণ্ড

বরিশালের বানারীপাড়ায় প্রবাসীর বাড়িতে তিন খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। বাড়িতে লুটপাট চালাতেই এই তিন খুনের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করলে তাঁদের জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীর আলমারি থেকে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকার ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মাদ আব্দুর রাকিব।

গত শনিবার ভোর রাতে বানারীপাড়া উপজেলার সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নের বাকপুর গ্রামের মেম্বারও বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী হাফেজ আব্দুর রব হাওলাদারের বাসা থেকে তাঁর মা মরিয়ম বেগম (৭৫), বোন মমতাজ বেগমের স্বামী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল আলম (৬৫) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফের (৩০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, বানারীপাড়ার সালিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী আব্দুর রবের বাড়িতে তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পরপরই ওই বাড়ির নির্মাণ শ্রমিক জাকির হোসেনকে (৩৫) আটক করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার দিন রাতে জাকির ওই বাড়িতে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তিতে শনিবার রাতে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন পশ্চিম মতাশুরার মুহুরীকান্দা এলাকা থেকে জুয়েল নামের এক যুবককে আটক করা হয়। পরে জাকির ও জুয়েলের দেওয়া তথ্য মতে নগরীর সাগরদীর মুন্সিবাড়ী এলাকায় জাকিরের ভাড়া বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃতদের জব্দ মালপত্রসহ বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মাদ আব্দুর রাকিব কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আটক জাকির ও জুয়েল স্বীকার করেছেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাকির জানিয়েছেন, জিন হাজির ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করেন বলে তিনি প্রচার চালান। এসব কথায় তিনি ওই প্রবাসীর বাড়ির সবার বিশ্বস্ততা অর্জন করেন। এর সুযোগ নিয়ে বাড়িতে জিন আসবে বলে রাতে দরজা খোলা রাখার কথা বলেন। রাতে ওই বাড়িতে সহযোগী জুয়েলকে নিয়ে প্রবেশ করে কুয়েতপ্রবাসী আব্দুর রবের মা, বোনজামাই শফিকুল আলম ও খালাতো ভাই ইউসুফকে হত্যা করেন। একই সময়ে প্রবাসী আব্দুর রবের বাড়ি থেকে তিনটি মোবাইল ফোন এবং তাঁর স্ত্রী মিশরাতের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন। তবে ওই তিনজনকে হত্যা করার পেছনে আরো কোনো কারণ আছে কি না তা স্পষ্ট করেননি আটককৃতরা। এ রিপোর্ট লেখার সময় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আটক জাকির ও জুয়েলকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। দুজনকে প্রবাসীর ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা