kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

রুপালি জগতের সেরারা পেলেন জাতীয় পুরস্কার

সমাজমনস্ক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রুপালি জগতের সেরারা পেলেন জাতীয় পুরস্কার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিচ্ছেন সাবিনা ইয়াসমিন। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দর্শক সারিতে যাঁরা বসেছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগ চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষ। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে গতকাল রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র যেন পরিণত হয় তারার মেলায়। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে চলচ্চিত্রে শিল্পীদের অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতির এই পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। এবার দুই বছরের ২৮টি শাখায় ৬৩ জনকে দেওয়া হয় পুরস্কার।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত  সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনু। স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্যসচিব আবদুল মালেক।

এর আগে গত ৭ নভেম্বর ২০১৭ ও ২০১৮ সালের যথাক্রমে ২৭ ও ২৮টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। গতকাল তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এ মর্যাদাবান পুরস্কার। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামান ও অভিনেত্রী সালমা বেগম সুজাতা যৌথভাবে চলচ্চিত্রজগতে তাঁদের অবদানের জন্য ২০১৭ সালের আজীবন কৃতিত্বের পুরস্কার অর্জন করেছেন। অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক এম এ আলমগীর ও অভিনেতা প্রবীর মিত্র ২০১৮ সালের আজীবন পুরস্কার অর্জন করেছেন।

অনুষ্ঠানে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিসহ সামাজিক অবক্ষয় রোধে সমাজ ও জীবনমনস্ক সুস্থ চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র যত বেশি নির্মাণ করা যাবে, আমাদের সেটা তত বেশি মঙ্গলজনক হবে। বর্তমান যুগে আপনারা জানেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি আমাদের সমাজকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র আইনগত অভিযান দিয়েই সমাজকে এখান থেকে রক্ষা করা যাবে না। এর জন্য দরকার মানুষের ভেতরের চেতনাটাকে আরো উদ্ভাসিত করা। এর খারাপ দিকটা তুলে ধরা এবং ভালো কিছু মানুষের সামনে উপস্থাপন করা। চলচ্চিত্র এখানে বিরাট একটা ভূমিকা রাখতে পারে। কাজেই সেদিকে আপনারা আরো বেশি নজর দেবেন।

চলচ্চিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিল্পকলার সবগুলো মাধ্যমের সমন্বয়ে চলচ্চিত্র। সবচেয়ে শক্তিশালী গণমাধ্যম। এ মাধ্যম ব্যবহার করে মানুষের চিন্তা-চেতনা, মননে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। মানুষের মধ্যে গভীর দাগ কাটতে পারে এবং মানুষকে আরো সুন্দর পথে চলার প্রেরণা দিতে পারে এ চলচ্চিত্র।’ চলচ্চিত্রে অসুস্থ ধারার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর আমাদের সাংস্কৃতিকজগতেও অপসংস্কৃতির প্রচলনটা খুব দেখতে পেলাম। এমনকি এমন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে পরিবার-পরিজন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সেই পরিবেশটাও ছিল না। আমরা কিন্তু সেই অশুভ জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন অনেক বেশি সমাজ সংস্কারমূলক, আবেদনমূলক চলচ্চিত্র হচ্ছে, যার জন্য মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।’

এর আগে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০১৭ সালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ এবং ২০১৮ সালের পুরস্কার জিতেছে ‘পুত্র’। বদরুল আনাম সৌদ তাঁর ‘গহিন বালুচর’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৭ সালের সেরা পরিচালক এবং মুস্তাফিজুর রহমান মানিক তাঁর ‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৮ সালের সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন।

শাকিব খান ও মাহবুবুল আরেফিন শুভ যৌথভাবে ২০১৭ সালে ‘সত্তা’ ও ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। ফেরদৌস আহমেদ ও সাদিক মো. সাইমন (সাইমন সাদিক) যথাক্রমে ‘পুত্র’ ও ‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৮ সালের সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন।

‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নুসরাত ইমরোজ তিশা ২০১৭ সালের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন এবং ২০১৮ সালের সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার ‘দেবী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জয়া আহসান।

‘গহিন বালুচর’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০১৭ সালের সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন মো. শাহাদাত হোসেন এবং ‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালের সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন আলী রাজ।

‘গহিন বালুচর’ ও ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০১৭ সালের সেরা সহ-অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন যৌথভাবে সুবর্ণা মুস্তাফা ও রুনা খান এবং ‘মেঘকন্যা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালের পুরস্কার পেয়েছেন সুচরিতা।

২০১৭ সালের ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা খলনায়কের পুরস্কার পেয়েছেন জাহিদ হাসান এবং ২০১৮ সালের ‘একটি সিনেমার গল্পো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা খলনায়কের পুরস্কার পেয়েছেন সাদেক বাচ্চু।

‘তুমি রবে নীরবে’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৭ সালের সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন এম ফরিদ আহমেদ হাজরা এবং ‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৭ সালের সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন ইমন সাহা।

‘সত্তা’ চলচ্চিত্রে ‘তোর প্রেমেতে অন্ধ’ গানটির জন্য ২০১৭ সালের সেরা পুরুষ সংগীতশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন মাহফুজ আনাম জেমস এবং ‘পুত্র’ চলচ্চিত্রে ‘যদি দুঃখ ছুঁয়ে’ গানটির জন্য ২০১৮ সালের সেরা পুরুষ সংগীতশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন নাইমুল ইসলাম রাতুল।

‘সত্তা’ চলচ্চিত্রে ‘না জানি কোন অপরাধে’ গানটির জন্য ২০১৭ সালের সেরা নারী সংগীতশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন মমতাজ বেগম এবং ‘পুত্র’ চলচ্চিত্রে ‘ভুলে মন অভিমান’ গানের জন্য সাবিনা ইয়াসমিন ও ‘একটি সিনেমার গল্প’ চলচ্চিত্রে ‘গল্প কথার ওই’ গানের জন্য আঁখি আলমগীর যৌথভাবে ২০১৮ সালের সেরা নারী সংগীতশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছেন।

সেরা ডকুমেন্টারি বিভাগে ২০১৭ সালের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনকে ‘বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশে’ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে এবং ২০১৮ সালের জন্য ফরিদুর রেজা সাগরকে ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা