kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

থামছে না আইএসের টুপি বিতর্ক

কারা কর্তৃপক্ষের পর গোয়েন্দারাও অন্ধকারে

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কারা কর্তৃপক্ষের পর গোয়েন্দারাও অন্ধকারে

বহুল আলোচিত গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির মাথায় আইএসের প্রতীকসংবলিত যে কালো টুপি ছিল সেটা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।  এখনো পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ একে অন্যের প্রতি দোষ চাপাতেই ব্যস্ত। অথচ সেই রহস্যের কূলকিনারা হয়নি গত সাত দিনেও। অন্যদিকে জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান তদন্ত কমিটির কাছে ও আদালতে টুপি পাওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য নিয়েও রয়েছে বিভ্রান্তি। একই সঙ্গে এই টুপিরহস্য অজানা রেখেই কারা কর্তৃপক্ষ ও ডিএমপি তদন্ত শেষ করেছে।

ডিএমপির তদন্ত কমিটির প্রধান ও গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ আইএসের প্রতীকসংবলিত টুপি গুলশানের হলি আর্টিজান মামলার জঙ্গিরা কোথায় পেল, তদন্তে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জঙ্গি রিগ্যান যে বক্তব্য দিয়েছে তা সত্য নয়। আবার অন্যরাও যেসব বক্তব্য দিয়েছে তারও কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরাও অন্ধকারের মধ্যে আছি।’

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গিরা ঠিক কোথা থেকে ওই টুপি পেয়েছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কারাগারে জঙ্গিরা টুপি ব্যবহার করত। সেই টুপি পকেটে করে নিয়েই আদালতে এসেছিল জঙ্গিরা। রায় ঘোষণার পর প্রথমে সেই টুপি উল্টো করে পরলেও পরে তা ঠিক করে পরে নেয় তারা। তবে সেই টুপিই এই টুপি কি না তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিগ্যানকে জিজ্ঞাসাবাদকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রিগ্যান জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, টুপিটি কারাগার থেকেই সে পকেটে করে নিয়ে আদালতে এসেছিল। এরপর আদালত চত্বর থেকে ফেরার সময় টুপিটি প্রিজন ভ্যান থেকে ফেলে দেয় সে। তবে জিজ্ঞাসাবাদে সে জায়গাটি নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না এখন।’

এদিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জঙ্গিরা কোথা থেকে টুপি পেল, সেই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। টুপিটি এখন কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। আদালত চত্বরে দুই জঙ্গির মাথায় টুপি দেখা গেলেও তারা কারাগারে পৌঁছার পর সেখানে কোনো টুপির হদিস পায়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যানের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে জঙ্গিরা রাস্তায় টুপি ফেলে দিতে পারে।

কারা কর্তৃপক্ষের গঠন করা তদন্ত কমিটির সদস্য কারা অধিদপ্তরের ডেপুটি আইজি প্রিজন মো. টিপু সুলতান বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী, কোনো আসামিকে কারাগার থেকে বের করে আদালতে নেওয়ার সময় এবং আদালত থেকে আবার কারাগারে প্রবেশ করানোর সময় খুবই সতর্কতার সঙ্গে সার্চ করে দেখা হয়। আমরা তদন্ত করে দেখেছি, হলি আর্টিজান হামলার রায়ের দিনেও আসামিদের সার্চ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং সার্চ করে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ সময় জঙ্গিদের কাছে কোনো ধরনের টুপির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’ তাহলে টুপি এলো কোথা থেকে এবং ডিএমপির তদন্তের বিষয়ে কী বলবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টুপি ঠিক কোথা থেকে এসেছে সেটি আমরা জানি না।’ তিনি ডিএমপির তদন্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি ছিল কি না সেটি তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যদি কারো কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া যায় অবশ্যই সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে কারাগারের একটি সূত্র দাবি করেছে, রায়ের দিন পুলিশ আসামিদের কারাগারে নিতে আসার সময় কোনো হ্যান্ডকাফ নিয়ে আসেনি। সাধারণত কোনো আসামিকে আনা-নেওয়ার  ক্ষেত্রে হ্যান্ডকাফ কারাগার থেকে দেওয়া হয় না। ওই সূত্র আরো জানিয়েছে, কারা কর্তৃপক্ষও ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েছে, আসামিরা করাগার থেকে যাওয়ার সময় তাদের কাছে কোনো টুপি ছিল না। এ ছাড়া আসামিদের কারাগার থেকে বের করার পর সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর কোনো ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার পুলিশেরই নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা